Published : 03 May 2026, 03:59 PM
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ জেলায় ৪০ হাজার ৯৫৮টি গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে কোনো রাসায়নিক বা অপদ্রব্য ছাড়াই এসব পশুকে প্রস্তুত করা হয়েছে দাবি খামারিদের।
তারা বলছেন, পশু পালনের খরচ গত বছরের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে; ফলে ন্যায্য মূল্য না পেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সরদার বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শে ৫ উপজেলার ৪ হাজার ৮৩৮টি খামারে এসব গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “খড়, গম ও ডালের ভূষি, কাচা ঘাস, খৈইল, ধানের কুড়া খাইয়ে এসব পশু পালন করা হয়েছে। ফলে এসব পশুর মাংস মানুষের দেহের জন্য নিরাপদ।”
ওই কর্মকর্তা জানান, কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গবাদি পশুর মধ্যে আছে ২১ হাজার ২টি ষাঁড়, ১৭৫টি বলদ, ৫ হাজার ২৫১টি গাভী, ৮০টি মহিষ, ১৪ হাজার ২৯৫টি ছাগল এবং ১৫৫টি ভেড়া।
তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে খামারগুলোয় পশু লালন-পালনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরও পশু তদারকি অব্যাহত রেখেছে এবং পশু নিরাপদে বাজারজাতকরণের জন্য প্রয়োজনী পরামর্শ দিচ্ছে।”
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্য করপাড়া গ্রামের নারী খামারি ফাতেমা বেগম প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে ১৮টি গরু মোটা-তাজা করেছেন।
তিনি বলেন, “সংসার সামলিয়ে অনেক কষ্টে খামার করেছি। এ বছর গোখাদ্যের দাম খুবই চড়া ছিল। তাই গরু মোটাতাজা করতে বাড়তি খরচ হয়েছে।
“ভারত অথবা অন্য দেশ থেকে পশু না আসলে কোরবানির হাটে আমাদের গবাদি পশুর ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশা রয়েছে।”
স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গবাদি পশু বাজারজাত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত গবাদিপশুর ন্যায্য মূল্য পেলে আমরা লাভবান হব। আমাদের সারা বছরের পরিশ্রম ও কষ্ট সার্থক হবে।”
এ বছর ৫৫টি গরু মোটাতাজা করেছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের খামারি আরিফ মোল্লা।
গত বছরের তুলনায় এ বছর অন্তত ২০ শতাংশ অতিরিক্ত খরচ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে গরু মোটাতাজা করেছি। মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন প্রত্যাশিত মূল্য পেলে লাভের মুখ দেখতে পারব।
“আর যদি বিদেশি গরু পশুর হাট দখল করে তাহলে দেশি গরুর চাহিদা কমবে। এতে বাজার দর কমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লোকসানের আশংকা রয়েছে ।”
হাটে বিদেশি গরুর আমদানি ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান এ খামারি।

১৫টি স্থানে গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয়ের হাট
এদিকে জেলার ৫টি উপজেলায় এবার ১৫টি স্থানে গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয়ের হাট বসছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় তিনটি, মুকসুদপুরে চারটি, কাশিয়ানীতে তিনটি, কোটালীপাড়ায় চারটি ও টুঙ্গিপাড়ায় একটি পশুরহাট বসছে।
প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র সরদার বলেন, এসব হাট তদারকির জন্য ইতিমধ্যে ১৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল টিমগুলো পশুর হাটে সার্বক্ষণিক সেবা দিতে থাকবে।
এছাড়া জাল টাকা লেনদেন বন্ধ ও ছিনতাইকারীদের হাত থেকে গবাদি পশু ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুরক্ষায় হাটগুলোতে ক্যাশলেস লেনদেনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রভাস চন্দ্র সেন বলেন, “গবাদি পশুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমরা হাটগুলোতে ভারতসহ অন্যান্য দেশের পশু ক্রয়-বিক্রয় নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, খামারিরা কোরবানির হাটে ন্যায্যমূল্যে গবাদি পশু বিক্রি করে লাভবান হবেন।
“এছাড়া কোরবানির পশু পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিরাপদে পশু পরিবহনে সব ধরনের আশ্বাস দিয়েছে।”
এসব উদ্যোগের কারণে এবার কোরবানির গবাদি পশু বাজারজাত নিয়ে খামারিরা হয়রানির শিকার হবেন না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ কর্মকর্তা।
গোপালগঞ্জ বিসিকের এজিএম এ.কে.এম কামরুজ্জামান বলেন, “চামড়া সংরক্ষণের জন্য আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে গবাদি পশু ক্রেতাকে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করব। এ লবণ মাদ্রাসাগুলোতেও সরবরাহ করা হবে। যাতে মাদ্রাসায় আসা পশুর চামড়া ভালোভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।”