Published : 02 Feb 2026, 05:45 PM
বাংলাদেশের নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা ব্যয় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বহনের অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, “১৩ তারিখ থেকে জুলাই তরুণেরা একটি নতুন বাংলাদেশ পাবে। সেদিন মায়েদের মাথার ওপর তুলে মর্যাদা দেওয়া হবে। ঘর, পথ ও কর্মস্থলে নারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। দেশের নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা ব্যয় বহন করবে রাষ্ট্র।”
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, “যুবকরা প্রস্তুত হয়ে যাও- এই বাংলাদেশ খুব শিগগিরই আমরা তোমাদের হাতে তুলে দেব। আগামী ১২ তারিখ এ দেশের আপামর জনগণ জুলুম ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখাবে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো ‘সাধারণ নির্বাচন’ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা ১৮–২৪-এর নির্বাচন নয়; এটা জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন, জুলাই বীরদের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন, মা-বোনদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন।
“এই নির্বাচন হচ্ছে গত ৫৪ বছরে দফায় দফায় কায়েম হওয়া ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে বিদায় জানানোর নির্বাচন।”
সাম্প্রতিক সময়ে মা-বোনদের প্রতি সহিংসতা ও নিপীড়নের ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “যারা পেছন থেকে আঘাত করে, তারা কখনো সামনে এগোতে পারে না।”
জুলাই বিপ্লবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তারা আগেই জাতিকে জানিয়ে দিয়েছে-তারা ইনসাফের পক্ষে, পুরোনো রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদের পক্ষে নয়।”
শহীদদের হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখানে কোনো মায়া, দয়া বা ছাড় নেই। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।”

একই সঙ্গে অনুতপ্তদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “ভুল মানুষই করে। অনুতপ্ত হলে তাদের ইতিবাচকভাবে সমাজে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।”
কক্সবাজার এখনো সিঙ্গাপুর হতে পারেনি কেন- এমন প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অসৎ ও দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বের কারণেই এই অঞ্চল পিছিয়ে রয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বগলের নিচে ইনকিলাব রেখে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের কথা বললে জনগণের মন গলবে না। “আমরা লেজ বা পা ধরবো না—মাথা ধরবো। একজনের শাস্তি দেখে যেন হাজার জন শুদ্ধ হয়।”
দেশ থেকে পাচার হওয়া প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “এই টাকা কোনো প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে যাবে না। জনগণের টাকাই জনগণের কাজে ব্যয় হবে।”
এ অঞ্চলে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “এটি কেবল নামের প্রতিষ্ঠান হবে না; এমন শিক্ষা দেবে, যা মানুষ গড়বে এবং দেশ গড়ার কারিগর তৈরি করবে।”

তিনি বলেন, “রাজার ছেলে রাজা হবে—এই রাজনীতি আমরা করি না। যোগ্যতাই হবে মাপকাঠি। একজন রিকশাচালকের মেধাবী সন্তানও যেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে—এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে জামায়াত আমির বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট দিতে হবে। প্রথমটি ‘হ্যাঁ’ ভোট-জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোর জন্য। আর দ্বিতীয়টি হবে দেশ পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট।”
‘হ্যাঁ’ ভোট যেন কেবল মুখের নয়, বুকের ভাষা হয়- এই প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, যারা শেষ পর্যন্ত এর বিপক্ষে দাঁড়াবে, জাতি তাদের অবস্থান বুঝে নেবে।
১২ তারিখের ভোটকে ‘ব্যালট বিপ্লব’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “কক্সবাজারের চারটি আসনেই দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রয়েছে। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি- আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না।”
শেষে কক্সবাজারবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চারটি আসনের দায়িত্ব আমাদের হাতে তুলে দিন- কোনো গোষ্ঠীর হাতে নয়, জুলাইয়ের যুবকদের হাতে।”
এর আগে সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর নির্বাচনি জনসভাতে শফিকুর রহমান বক্তব্য দিয়েছিলেন।
আগের সংবাদ
গণভোটে 'হ্যাঁ' মানে স্বাধীনতা, 'না' মানে গোলামি: শফিকুর রহমান