Published : 19 Apr 2026, 03:43 PM
দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সংগঠক এবং ‘জাতীয় নারীশক্তির’ সদ্য ঘোষিত কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি।
শনিবার এক ফেইসবুক পোস্টে নিজের পদত্যাগপত্র পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, নির্বাচনের আগেই তিনি এনসিপি থেকে ‘নিষ্ক্রিয়’ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
“আজ ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত এনসিপির নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের নাম দেখে বিস্মিত, উক্ত কমিটির সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সকল প্রকার পদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেছি। ধন্যবাদ।”
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্য সচিব করে শনিবার দলের নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির ৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
ওই কমিটিতে নাম আসার পরপরই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মেয়ে প্রীতি তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। শনিবার দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তিনি প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
পদত্যাগপত্রে দ্যুতি লিখেছেন, “এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি এই দলের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, দল যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে এই যাত্রা শুরু করেছিল, বর্তমানে দলের কার্যক্রমে তার প্রতিফলন আর দেখা যাচ্ছে না। আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গ হওয়ার এই পরিস্থিতিতে আমার পক্ষে দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না।

“এ অবস্থায় আমি অদ্যই এনসিপির সকল পর্যায়ের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করছি। আজ থেকে এই দলের কোনো কার্যক্রমের সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত বলেন, “দ্যুতি অরণ্য আরও আগে থেকে নিষ্ক্রিয়। ১১ দলীয় জোট গঠনের সময় যারা দল থেকে নিষ্ক্রিয় হন, তিনি তাদের একজন। তবে দল থেকে পদত্যাগ করার কথা আমি জানি না।”
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সামনের সারির নেতাদের দল এনসিপি রাজনীতিতে নতুন বন্দোবস্ত আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করে।
কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একের পর এক নেতা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই দলটির ‘আদর্শিক বিচ্যুতি’ ও ডানপন্থি ঘরানায় ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ এনে সে সময় অন্তত ১৫ জন এনসিপি ছাড়েন।
দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, তাজনূভা জাবীন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা, আসিফ নেহাল (আসিফ মোস্তফা জামাল), মীর হাবীব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, আল আমিন টুটুল, যুগ্ম সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া রয়েছেন তাদের মধ্যে।