Published : 26 May 2026, 07:26 PM
খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর হাট নগরের জোড়াগেট পশুর হাটে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক বাড়তে শুরু করেছে। এখনো বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নদী ও সড়কপথে পশু এসে জমা হচ্ছে এই হাটে।
তবে হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষের ভিড় থাকলেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাবেচা। অনেকে পশু দেখছেন, দরদাম করছেন, কিন্তু হাতবদল হচ্ছে তুলনামূলকভাবে কম।
২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খুলনা সিটি করপোরেশন ঈদের আগের সপ্তাহজুড়ে এই হাটের আয়োজন করে আসছে।
বিক্রেতারা বলছেন, ২১ মে হাট শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েক দিন পশুর সংখ্যা কম ছিল। তবে রোববার রাত থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে গরু ও ছাগলসহ অন্যান্য পশু আসতে শুরু করে; যা এখনো আসছে। এর মধ্য ছোট আকারের কিছু গরু বিক্রি হলেও মাঝারি ও বড় গরুর বেচাকেনা খুব কম।
নগরে পশু রাখার জায়গার সংকট থাকায় অনেক ক্রেতাই ঈদের এক-দুই দিন আগে গরু কিনতে চান। ফলে এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের আশা, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে কেনাবেচা জমে উঠবে।

মঙ্গলবার দুপুরে হাট ঘুরে দেখা গেছে, কিছু বড় গরুর সামনে দর্শনার্থীদের জটলা তৈরি হচ্ছে। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন।
শিশু-কিশোরদের মধ্যেও বড় গরু নিয়ে কৌতূহল দেখা গেছে। বিশেষ করে বড় ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল ও ব্রাহামা জাতের গরুর সামনে ভিড় বেশি।
কেউ গরু দেখতে এসেছেন পরিবার নিয়ে, কেউ বাজার যাচাই করছেন, আবার কেউ খোঁজ করছেন-হাটের সবচেয়ে বড় গরু। বরাবরের মতো হাটে সবচেয়ে বেশি গরু এসেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে।
হাটে এবার আগের বছরের তুলনায় খুব বড় গরুর সংখ্যা কম। মাঝারি ও বড় আকারের গরুই বেশি দেখা যাচ্ছে। ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার গরুর
চাহিদা তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি।

হাটের পাশে ছাগল-ভেড়ার জন্য পৃথক জায়গা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী বুথ এবং হাসিল আদায়ের নির্ধারিত স্থান স্থাপন করা হয়েছে। মাইকে নিয়মিত হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
নড়াইলের মির্জাপুর থেকে দুটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু নিয়ে এসেছেন আল মামুন। তার বড় গরুটির দাম চাচ্ছেন ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর ছোট গরুর দাম হাঁকছেন ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।
মামুন বলেন, গতবছরও তিনি এ হাটে দুইটি গরু নিয়ে এসেছিলেন। ঝড়ো হাওয়ায় বৃষ্টির ও কারণে ক্রেতা কম। তবে এই হাটে শেষ দিকেই বেচাকেনা জমে। এটাই এই হাটের চিরায়ত রীতি। হয়তো সন্ধ্যার পর হাট জমবে।
নড়াইলের কালিয়ার বাবুপুর এলাকার শিমুল সরদার একটি বড় ফ্রিজিয়ান ও একটি শাহিওয়াল গরু এনেছেন। তার ফ্রিজিয়ান গরুটির ওজন ২৫ মণের বেশি বলে দাবি করেন তিনি।
গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে সাড়ে সাত লাখ টাকা, শাহিওয়ালটির দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা।

সাতক্ষীরার আনুলিয়ার আনিসুর রহমান একটি ফ্রিজিয়ান গরু নিয়ে এসেছেন, যার দাম চাওয়া হয়েছে চার লাখ বিশ হাজার টাকা।
তিনি বলছিলেন, গরুটি হাটে আনতে পাঁচ হাজার টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। কিছুটা কম দাম পেলেও গরুটি বিক্রি করে দিতে চান।
নগরের বয়রা এলাকার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা রবিউল আলম পরিবার নিয়ে হাটে এসেছিলেন কোরবানির পশু কিনতে। তিনি বলেন, হাট এখনো পুরো ভরে যায়নি, এখনো পশু আসছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ক্রেতা একটু কম থাকায় তিনি গাড়ি নিয়ে কিছুদূর ঢুকতে পেরেছেন।
“এবার হাটে মাঝারি গরুই বেশি। অন্যবারের মতো খুব বড় গরু কম। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর একটু দাম বেশি।”

হাটের পাশের অস্থায়ী দোকানগুলোতে গমের ভুসি, ধানের ভুসি, খইল, শুকনা খড়, তাজা ঘাস, কাঁঠালের পাতা, চাটাই, টুকরি ও রঙিন মালাসহ বিভিন্ন পশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে চা ও খাবারের দোকানেও।
খুলনা সিটি করপোরেশনের সুপারিনটেনডেন্ট ট্যাক্সেশন (বাজার) ও হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব শেখ শফিকুল হাসান দিদার জানান, গত বছর এই হাটে ৬ হাজার ৬৫১টি পশু বিক্রি হয়েছিল এবং রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ কোটি ৭ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে বিক্রি হয়েছিল ৬ হাজার ২৭টি পশু এবং রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, “মূল কেনাবেচা সাধারণত ঈদের আগের দুই দিন ও ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত বেশি হয়। এখনো বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আসছে। এবারও চার শতাংশ হারে হাসিল নেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”