১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন

২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে ১৪ বছর বয়সি মেয়েকে ঘরে একা রেখে বাড়ির পাশের দোকানে গিয়েছিলেন তার মা।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jun 2026, 05:22 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:32 PM

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ১১ বছর আগে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের  মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আলী মনসুর আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক। 

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মমিন (৪২) রাণীশংকৈল উপজেলার একটি গ্রামের প্রয়াত জালাল বৈরাগী প্রমাণিকের ছেলে।  

এই ধর্ষণ মামলার আরেক আসামি আব্দুল মমিনের ভাই এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত। 

মামলার বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বলেন, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে ১৪ বছর বয়সি মেয়েকে ঘরে একা রেখে বাড়ির পাশের দোকানে গিয়েছিলেন তার মা। 

বাকপ্রতিবন্ধী ওই কিশোরীকে ঘরে একা পেয়ে তখন ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী আব্দুল মমিন। বাড়িতে ফিরে কিশোরীর মা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে মমিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। 

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

ঘটনার পর শিশুটির পরিবার মমিনের বাড়িতে গিয়ে বিচারের দাবি জানালে তার ভাই এরশাদ বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দেন এবং আব্দুল মমিনকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। 

পরে ২৩ অক্টোবর ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে আব্দুল মমিন ও তার ভাই এরশাদকে আসামি করে রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর মামলা স্বাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের আসামি আব্দুল মমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। 

পাশাপাশি আব্দুল মমিনকে দুই লক্ষ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক আলী মনসুর। 

মামলার এ রায়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর মা ও মামলার বাদি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও জানিয়েছেন এ আইনজীবী।