১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, ফের প্লাবিত লালমনিরহাট

প্লাবনে ক্ষতি হয়েছে আমন ধানসহ ফসলের; ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2025, 06:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:30 PM

ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এতে লালমনিরহাট জেলার তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চল দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হয়েছে।  

রোববার দুপুর ১২টায় হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১২০ মিটার, যা বিপৎসীমা (৫২.১৫ মিটার) থেকে ৫ সেন্টিমিটার বেশি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কয়েকদিন ধরে ভারতে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যার প্রভাবে উজান থেকে বিপুল পানি নেমে এসেছে। সেইসঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলে দুই দিনের বৃষ্টিতেও নদীর পানি বাড়ছে।

ফলে জেলার হাতীবান্ধা, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানসহ নানা ফসল, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

গড্ডিমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা আসাদুল হক বলেন, “ভোর থেকে পানি বাড়ছে। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে।”

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার আমিনুর ইসলাম বলেন, “প্রথম দফার পানি নামতে না নামতেই আবার পানি উঠেছে। এখন বড় বন্যার ভয় করছি।”

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বলেন, “পানি বাড়লেই আমার ইউনিয়নের দেড় হাজারের বেশি পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়ে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, “বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়ছে। তিস্তা তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হতে পারে, সতর্ক থাকার জন্য আমরা স্থানীয়দের বলছি।”

লালমনিরহাটের ডিসি এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “বন্যার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। গেল বন্যায় যেভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল, এবারও একইভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” 

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা থাকায় নদী তীরবর্তী জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।