০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ভোর থেকে পানি উঠছিল’ ফেরিতে

“নিচ দিয়ে পানি উঠছে। ফেরিওয়ালারা ঘাট কর্তৃপক্ষ কাউকে জানায়নি। তারা এখন বলছে বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবছে,” বলছেন উদ্ধার পাওয়া একজন ট্রাক শ্রমিক।

‘ভোর থেকে পানি উঠছিল’ ফেরিতে

পদ্মায় ফেরি ডোবার পর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে উৎসুক জনতার ভিড়।

মাহিদুল ইসলাম মাহি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Jan 2024, 12:37 PM

Updated : 17 Jan 2024, 01:58 PM

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধায় ভোর থেকে পানি উঠছিল বলে দাবি করেছেন উদ্ধার পাওয়া দুইজন।

ফেরিতে থাকা ট্রাক মালিক, কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম পাটুরিয়া ঘাটে সাংবাদিকদের বলেন, “কোনো বাল্কহেড ধাক্কা দেয়নি। নিচ দিয়ে পানি উঠে ডুবে গেছে।”

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, ইউটিলিটি ফেরি 'রজনীগন্ধা' মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে দৌলতদিয়া থেকে সাতটি ছোট ট্রাক এবং দুটি বড় ট্রাক নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু পাটুরিয়ার কাছাকাছি গিয়ে ঘন কুয়াশার কারণে নদীতে নোঙ্গর করে। সকাল ৮টার দিকে ৫ নম্বর ঘাটের কাছাকাছি গিয়ে সেটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটি ছোট মালবাহী জাহাজ ফেরিটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।”

তবে ট্রাক মালিক নাজমুল বলছেন, ভোর ৪টার দিকে ফেরির তলা দিয়ে পানি ওঠা শুরু করে। সকালের দিকে ফেরি ডুবতে শুরু করে।

ট্রাকে করে মালামাল নিয়ে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন নাজমুল। ফেরি ডুবতে শুরু করলে আশপাশে থাকা কয়েকটি নৌযান ফেরির আরোহীদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে। নাজমুলসহ কয়েকজনকে একটি ট্রলারে তুলে নেওয়া হয়।

Image

ডুবে যাওয়া ফেরি থেকে উদ্ধার পাওয়া ট্রাক মালিক নাজমুল ইসলাম

এরমধ্যে নয়টি ট্রাকসহ উল্টে যায় ফেরি রজনীগন্ধা-৭। দীর্ঘ সময় ফেরির একটি অংশ উল্টো অবস্থায় ভাসতে দেখা গেলেও পরে সেটি ধীরে ধীরে ডুবে যায়।

ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, তাদের ডুবুরিরা মোট ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। কারো মৃত্যুর তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে ফেরির সেকেন্ড ড্রাইভার হুমায়ূন কবিরের (৩৯) খোঁজ মেলেনি।

ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নৌবাহিনী ডুবুরি দলও সেখানে তল্লাশিতে যোগ দিয়েছে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে।

উদ্ধার পাওয়া আরোহীদের মধ্যে এক ট্রাকের কর্মী শহিদুল ইসলাম এ ঘটনার জন্য ফেরির কর্মীদের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পানি উঠে ডুবে গেছে। ঘাটের ২০০ মিটারের কাছে, তাও ডুবে গেছে। নিচ দিয়ে পানি উঠছে। ফেরিওয়ালারা ঘাট কর্তৃপক্ষ কাউকে জানায়নি। তারা এখন বলছে বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবছে।”

Image

ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা'।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কর্যালয়ের ডিজিএম শাহ খালেদ নেওয়াজ বলেন, “বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবছে– এতটুকু তথ্যই আমার কাছে আছে। নিচ দিয়ে পানি উঠে ফেরি ডোবার যে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীরা করছেন, সেটা খতিয়ে দেখা হবে।”

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধারে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়ায় পৌঁছেছে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা'। আরেক উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তমও মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাট থেকে রওনা হয়েছে।

“আরিচা নদী বন্দরের উদ্ধারকারী দল সেখানে উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দিয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তাফা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উদ্ধার কার্যক্রমের তদারকি করতে ইতোমধ্যে রওনা দিয়েছেন।”