‘বরিশল’ উপজেলা করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তিনটি, বিজয়নগর উপজেলার একটি এবং আখাউড়া উপজেলার বরিশল ইউনিয়ন নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা করার প্রস্তাবের প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয়রা।
ধারাবাহিক বিক্ষোভের অংশ হিসেবে সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার চার ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ জনতা এই কর্মসূচি করেন।
এ সময় তারা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কাউতলী মোড় এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম রোমা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ চার ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে একটি স্মারকলিপি দেন।
জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে জানানোর আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল এবং আখাউড়া উপজেলার বরিশল ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন উপজেলা নিরীক্ষণের জন্য দাপ্তরিক পত্র পাঠায়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সদর ও বিজয়নগর উপজেলা ভেঙে নতুন উপজেলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে রেল ও সড়কপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। তারা সদর উপজেলার সঙ্গেই বহাল থাকার দৃঢ় দাবি জানান।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, “চার ইউনিয়নের জনগণ নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আমরা পুরো বিষয়টি এবং জনগণের মতামত সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করব।”
