ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেল ও সড়ক অবরোধ, চলাচল বন্ধ
“আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলতে থাকবে,” বলেন বিএনপি নেতা নয়ন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার ছয়টি গ্রাম নিয়ে আখাউড়া উপজেলার নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রতিবাদে রেলপথ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার সকাল সোয়া ৭টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথ এবং আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন তারা।
এর ফলে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি সড়ক অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। অবরোধের কারণে কোড্ডা এলাকায় ভারতে রপ্তানি পণ্যের কয়েকটি ট্রাক আটকা পড়েছে।
গত ১২ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম নিয়ে বরিশল নামে আখাউড়া উপজেলার একটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার প্রস্তাবে নতুন এ ইউনিয়ন গঠিত হয়। তার বাড়ি বরিশল গ্রামে, যেটি আগে বাসুদেব ইউনিয়নের আওতায় ছিল।
বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে চান্দি, কোড্ডা, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, বৈষ্ণবপুর ও বরিশল গ্রামকে নিয়ে বরিশল ইউনিয়ন করার প্রতিবাদে নানা ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন সেসব গ্রামের বাসিন্দারা। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির একাংশ। সেই অংশের নেতৃর্ত্বে রোববার সকালে রেলপথ ও সড়ক অরোধ করেন স্থানীয়রা।
বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নয়ন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানির প্রভাব খাটিয়ে তার ভাই কবীর আহমেদ ভুঁইয়া এসব করছেন৷ বরিশল বিলেরপাড়ের একটি গ্রাম। এই গ্রাম কোনোভাবেই ইউনিয়ন হতে পারে না।
“তার এসব কর্মকাণ্ডে বিএনপিরও ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলতে থাকবে।”
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস জানান, অবরোধের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রফিকুল ইসলাম জানান, অবরোধের কারণে সিলেটগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছে। এছাড়া কক্সবাজারগামী বিরতিহীন আন্তঃনগর পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিও নিরাপত্তাজনিত করণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করবে।
