Published : 02 Jun 2026, 06:25 PM
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ নারী-পুরুষ ও শিশু দুদিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে এ নিয়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান আসেনি।
ফলে ওই ১০ জনকে চরম অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে সীমান্তের শূণ্যরেখার একটি গাছের নিচে অবস্থান করতে হচ্ছে। তারা কোনোদিকেই যেতে পারছেন না।

এই অবস্থার মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বেনাপোল সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ৪৯ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিএসএফকে বলেছি, তারা যদি বাংলাদেশি নাগরিক হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের পাঠালে আমরা গ্রহণ করব। অন্যথায় এভাবে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠালে আমরা মেনে নেব না। আমরা অবৈধভাবে কোনো নাগরিককে বাংলাদেশের জিরো লাইন ক্রস করতে দেব না।’
এ সময় সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজিবি অধিনায়ক কিছু বলতে চাননি।

সোমবার গভীর রাতে কাঁটাতারের গেইট খুলে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। বিজিবি ঘটনাটি জানতে পেরে ‘পুশইন’ প্রতিহত করে।
প্রথমে তাদের যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবির বাধার মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পরে রাতভর আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেইট খুলে তাদেরকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি ও গ্রামবাসীর কঠোর তৎপরতায় তাও ব্যর্থ হয়।
যে গেইট দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়, তার আগে সেখানকার সীমান্তের সার্চ লাইটগুলো বন্ধ করে দেয় বিএসএফ।
এদিকে, এ ঘটনার পর বেনাপোলসহ আশপাশের সীমান্তে জনবল ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে বিজিবি জানান। এ ছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে সীমান্তের গ্রামগুলোতে মাইকিং করতে শোনা গেছে।
আরও পড়ুন:
বেনাপোল সীমান্তে ৮-১০ জনকে 'ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা', সতর্ক বিজিবি