Published : 08 Sep 2025, 11:29 AM
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যিনি স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
রোববার বিকালে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শফিক উল্যাহর বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধারের খবর জানান সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।
নিহত ৩১ বছর বয়সী ফরিদা ইয়াছমিন সোনাইমুড়ী উপজেলার ভানুয়াই গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নুর নবীর স্ত্রী এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের দুলাল মিয়ার মেয়ে।
তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বাড়ির মালিক শফিক উল্যাহ বলেন, “ফরিদার সঙ্গে প্রায়ই তার স্বামীর ঝগড়া হতো। এমনকি বেডরুমেও সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছিল তার স্বামী।
“সকালে ফরিদার দরজা বন্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেই। পরে পুলিশ এসে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে।”
ফরিদার ভাই ভাই মাসুদ বলেন, “আমার বোনকে তার স্বামী নজরবন্দি করে রেখেছিল। আমাদের কারও সঙ্গে কথা বলতে বা যোগাযোগ রাখতে দিতো না।
“যোগাযোগ করলে মিথ্যা অপবাদ দিতো। স্বামীর চাপেই সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে।”

আরেক ভাই রাশেদ রানা বলেন, “সিসি ক্যামেরা ও ভিডিও কলে ঘটনাটি দেখেও স্বামী কাউকে জানায়নি। অথচ বাড়িওয়ালা ও পাশের ভাড়াটিয়ার মোবাইল নম্বর তার কাছে রয়েছে। আসলে সে চাইছিল আমার বোন মারা যাক।”
ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, সিসি ক্যামেরার কয়েকটি ফুটেজ দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ফরিদা পারিবারিক কলহের কারণে স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ফুটেজগুলো আরও যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় মৃতের পরিবার লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।