Published : 27 Apr 2026, 04:47 PM
‘মাংসের লোভে’ রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় মারা যাওয়া হাতিটির পায়ের অংশ ও শুঁড় কেটে নেওয়া হয়েছে।
রোববার রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে কাটা হাতিটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, “রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। সঙ্গে থাকা স্ত্রী হাতিটা সরে যাওয়ার পর দুবৃর্ত্তরা মৃত হাতিটির পায়ের অংশের মাংস ও শুঁড় কেটে নিয়ে গেছে।
“আমরা সকালে ঘটনাস্থলে টিম পাঠিয়েছি। তারা ময়নাতদন্ত শেষে হাতিটিকে মাটিচাপা দেবে। যারা হাতির মাংস ও শুঁড় কেটে নিয়েছে তাদেরকে খোঁজা হচ্ছে।”
ঘটনাটি নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্রাণী অধিকার কর্মী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া ক্ষোভ করে ফেইসবুকে লেখেন, “বনবিভাগের জবাবদিহিতা কোথায়? রাঙামাটির লংগদুতে গতকালের মৃত হাতির পায়ের মাংস ও শুঁড় কেটে নিয়ে গেছে মানুষ। এর চেয়ে ঘৃণিত ঘটনা আর কী হতে পারে? গতকাল শোকার্ত স্ত্রী হাতিটিকে মানুষ প্রচণ্ড উত্যক্ত করল, অথচ সেখানে বনবিভাগ বা ইআরটি টিমের কোনো দায়িত্বশীল উপস্থিতি দেখিনি। আর এখন রীতিমতো মৃত হাতিটির মাংসও চুরি হয়ে গেল। অথচ এই হাতিকেই মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসাবে সুরক্ষার জন্য বিশেষায়িত আইন পাস হল এখনো একমাস পার হয়নি। কাদের এত ক্ষমতা যে সরাসরি এসে শুঁড়, পা কেটে নিচ্ছে অবলীলায়? ২০২৬ এ দাঁড়িয়ে স্রেফ সামর্থ্যের ঘাটতি দাবি করে এতবড় স্পর্শকাতর ঘটনা পার পাওয়ার সুযোগ নেই।”
পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি রাকিবুল হক বলেন, “কোন হাতি মারা গেলে তার ময়নাতদন্ত ও মাটিচাপা দেওয়াসহ সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন বনবিভাগ। কিন্তু আমরা লংগদুতে দেখলাম পুরুষ হাতিটির মাংস এবং শুঁড় রাতের আঁধারে কেটে নিল গেল। বনবিভাগ এর দায় এড়াতে পারে না। তাদের উচিত ছিল হাতিটির ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা দেওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে পাহারা বসানো। কিন্তু সেটি হয়নি। সরকার এবং বনবিভাগের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। যেসব অফিসার দায়িত্ব অবহেলা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট কাচালং শুষ্ক ফাঁড়ির স্টেশন কর্মকর্তা মো. আবদুল কাইয়ুম নিয়াজীকে মোবাইলে একাধিক ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
রোববার সকালে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা হাতির মরদেহ দেখতে পেয়ে বনবিভাগকে খবর দেন। পরে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পরিদর্শন করেন।
বনবিভাগের তথ্যমতে, হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম অসুস্থ হলে বনবিভাগ এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দল চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে। চলতি বছরেও দুই দফায় অসুস্থ হলে তাকে পুনরায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। এটি ওই এলাকার অন্যতম বৃহৎ বয়স্ক হাতিগুলোর একটি ছিল। হাতিটির আনুমানিক বয়স ছিল ৬৫ বছর।