Published : 15 Jul 2025, 04:34 PM
পদত্যাগের দাবির মুখে পুলিশ প্রহরায় ক্যাম্পাস ছেড়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঞা।
সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে বাসায় পৌঁছে দেন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার অধ্যক্ষ কলেজে আসেননি বলে জানিয়েছেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল মজিদ। তিনি মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, “সোমবার রাতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে অধ্যক্ষ ‘আর আসবেন না’ বলে চলে যান। তবে পদত্যাগ করেননি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যে দাবিগুলো তুলেছে সেগুলো যৌক্তিক হলেও সময়সাপেক্ষ। এসব বিষয়ে খুব দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। অধ্যক্ষ চাইলেও দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন করতে পারতেন না।”
উপাধ্যক্ষ আরও বলেন, “যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলন হলেও এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা বিষয়টি ঠিক হয়নি। এটি সারাদেশে একটি ভুল বার্তা দেবে। আমরা চাই, ছাত্র-শিক্ষক সবাই মিলে সুন্দর প্রতিষ্ঠান গড়তে।”
গত সপ্তাহ থেকেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা নয় দফা দাবির বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও আন্দোলন করে আসছিল। অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনায় আশ্বাসমূলক বক্তব্য ও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না পেয়ে মঙ্গলবার বিকালে অধ্যক্ষের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা নয় দফা দাবি জানান এবং দুই কার্যদিবস সময় দেন। সোমবার কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনায় বসেন। কিন্তু তারা অধ্যক্ষের কাছ থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া নয় দফা দাবি হচ্ছে- কলেজে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন, ডিগ্রি শাখার জন্য পৃথক ও আধুনিক ক্যাম্পাস স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার, বহিরাগত, মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাস ও মাইক্রোবাস সার্ভিস চালু, আবাসিক হল ও আশপাশের হোটেল এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানি, আধুনিক ওয়াশরুম এবং যুগোপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় আলাদা ফান্ড গঠন, কলেজের সব ধরনের আয়-ব্যয় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
ভিক্টোরিয়া কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সোমবার দুপুরে আমাদের দাবির বিষয়ে অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে আশ্বাসমূলক বক্তব্য ও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংলাপ ভেঙে বের হয়ে আসেন এবং ‘এক দফা এক দাবি, অধ্যক্ষের পদত্যাগ চাই’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
“পরে তিনি (অধ্যক্ষ) মসজিদে আশ্রয় নিলে সেখানে তাকে রাতে উদ্ধার পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।”
এ সময় অধ্যক্ষের পাশে অন্যান্য শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও ছিলেন। সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরাসহ কয়েকজন কর্মকর্তা কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, “আমরা পরিস্থিতির কথা শুনে কলেজে গিয়েছি। সেখানে অনেক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে রাতে আন্দোলন করছিল। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে দাবি আদায়ের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছি এবং সেসময় পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে অধ্যক্ষকে বাড়ি নিয়ে যায়।”
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যগের দাবিতে বিকাল থেকে বিক্ষোভ করছিলেন। তবে রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা (পুলিশ) অধ্যক্ষকে রাত সোয়া ১১টার দিকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি।”
তবে রাতে এ বিষয়ে জানতে কলেজ অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঞার ব্যক্তিগত মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
উপাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, এই অবস্থায় কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে না। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে।