Published : 07 Jul 2026, 11:11 AM
ইউক্রেইনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানী কিইভ ও এর চারপাশের অঞ্চলগুলোয় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে।
সোমবার ভোররাতের এ হামলা ইউক্রেইনের যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের ব্যাপক ঘাটতি আছে, এমনটি তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন তারা; জানিয়েছে রয়টার্স।
মঙ্গলবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় নেটোর শীর্ষ সম্মেলনের আগেরদিন কিইভে ব্যাপক এ হামলা চালাল রাশিয়া। এই সম্মেলনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমিরি জেলেনস্কির বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

ইউক্রেইনের বিমান বাহিনীর তথ্যে দেখা গেছে, রাশিয়া যে ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তার একটিও আটকাতে পারেনি ইউক্রেইনের সামরিক বাহিনী।
এতে মূল্যবান প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় রাশিয়ার হামলার সামনে ইউক্রেইনে যে ক্রমবর্ধমানভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে তার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও খাড়া উড্ডয়ন পথের কারণে এগুলোকে থামানো কঠিন। ইউক্রেইনের অস্ত্র ভাণ্ডারে থাকা অস্ত্রগুলোর মধ্যে শুধু ইন্টারসেপ্টরগুলোই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে গুলি করে ধ্বংস করতে পারে। জেলেনস্কি ইন্টারসেপ্টরের জন্য সমর্থনদানকারী দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
ইউক্রেইনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার ছোড়া অন্য ধরনের ৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোনের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে।

দেশটির জরুরি পরিষেবা টেলিগ্রামে জানিয়েছে, রাজধানী কিইভে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। সরকারি আইন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহত্তর কিইভ অঞ্চলে আরও ১০ জন নিহত হয়েছে।
দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিজিয়া অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, সোমবার রাতে একটি পেট্রল পাম্পে ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হয়েছে।
রাশিয়ার সীমান্তবর্তী সুমাই অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, মস্কোর পৃথক ড্রোন হামলায় সেখানকার দুই বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে।
ইউক্রেইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কিইভে প্রায় ৩০টি ভবন উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে কিইভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছিল। এটি চলতি বছর ইউক্রেইনের রাজধানীতে চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। এর চারদিন পর কিইভে ফের ব্যাপক হামলা চালাল মস্কো।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী কিইভ ও ইউক্রেইনের অন্যান্য অঞ্চলে ‘ব্যাপক’ আক্রমণ চালিয়েছে। এই আক্রমণে দূরপাল্লার, অত্যন্ত নির্ভুল বায়ু, স্থল ও সাগর থেকে ছোড়া যায় এমন সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়টি আরও জানিয়েছে, কিইভ ও এর আশপাশের অঞ্চলের বিদ্যুৎ স্থাপনা আর অন্য অঞ্চলগুলোতে সামরিক বিমানক্ষেত্রগুলোকে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে।