Published : 13 Jun 2026, 07:41 PM
শরীয়তপুরে মাদক বিক্রির অভিযোগ এনে প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর, চুল কেটে মুখে আলকাতরা মাখিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
৩১ বছর বয়সি ওই নারীর স্বামী প্রবাসে থাকেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, দেলোয়ার দপ্তরি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারীর আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে সকালে আপস-মীমাংসার কথা বলে ওই নারীকে দেলোয়ার দপ্তরির পরিবারের সদস্যরা ডেকে আনেন।
পরে সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মাদক বিক্রির অভিযোগ এনে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে মারধর, চুল কেটে মুখে আলকতরা দেওয়া ও জুতার মালা পরানোর অভিযোগ ওঠে।
ওসি শাহ আলম বলেন, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ অভিযোগ পেয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওই নারী বলেন, “আমি কোনো মাদক বিক্রি করি না। আপনারা চাইলে আমার মোবাইল চেক করে দেখতে পারেন। যদি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে যে শাস্তি হবে আমি মেনে নেব।
“দেলোয়ার দপ্তরি আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে, যার প্রমাণ হিসেবে তিনি ঢাকায় গিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও করেছেন। ওই টাকার স্ট্যাম্প ফেরত নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তার পরিবারের সদস্যরা আমাকে মারধর করেছে, চুল কেটে দিয়েছে এবং মুখে আলকাতরা মেখে বেঁধে রেখেছে।”
তিনি বলেন, “আমাকে দপ্তরির ছেলে হকস্টিক দিয়ে পিটিয়েছে। আমি বাঁচতে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখান থেকেও আমাকে টেনে এনে মারধর করা হয়। আমি যদি কোনো অন্যায় করে থাকি, তাহলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারত। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
এ ব্যাপারে দেলোয়ার দপ্তরির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পরে তার এক মেয়ে বলেন, “ওই নারী আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। সে মাদক বিক্রি করে, তাকে সার্চ করলে মাদক পাওয়া যাবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।