Published : 11 Jul 2026, 03:14 PM
বাগেরহাটে বিএনপির এক নেতার লাশ উদ্ধার করার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের রনবিজয়পুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে খাটের ওপর বসা এবং গলায় কাপড় পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চাকলাদার আবুল কালাম নামে ৬০ বছর বয়সি এই ব্যক্তি উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করতে সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছেন।
পুলিশ বলছে, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জানা যাবে বিএনপির এই নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
আবুল কালাম রনবিজয়পুর গ্রামের প্রয়াত চাকলাদার হাতেম আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।
বিএনপির এই নেতা এক বছরের বেশি সময় ধরে একাই তার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে বাগেরহাট শহরে ভাড়াবাড়িতে থাকেন।
কালামের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম বলেন, “বনিবনা না হওয়ায় আমার ভাসুর কালামকে ছেড়ে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে বাগেরহাট শহরে ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছে। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি একা তার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
“তারা চলে যাওয়ার পর থেকে আমার ভাসুর কালামকে তিনবেলা খাবার আমি দিয়ে আসছি। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাত ১০টার পরে তাকে ডেকে খাবার দিই। আজ শনিবার সকালে তাকে ভাত দিতে এসে ডাকাডাকি করতে থাকি। কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে দেখি তিনি গলায় কাপড় পেঁচানো অবস্থায় বসে আছেন। এই দেখে আমি চিৎকার করতে থাকি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।”
বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বুলু বলেন, “কালাম দলের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়ি এসে দেখি তিনি খাটে বসা, গলায় কাপড় পেঁচানো। যেভাবে গলায় কাপড় পেঁচানো, তাতে মনে হয়নি তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এভাবে আত্মহত্যা করা যায় না।
“আমরা তার এমন মৃত্যুতে ব্যথিত হয়েছি। তার মৃত্যুরহস্য উন্মোচন করতে পুলিশ সঠিক তদন্ত করবে, সেই দাবি জানাচ্ছি।”
বাগেরহাট সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ বিএনপি নেতা কালামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বলা সম্ভব হবে।”