পুলিশের 'চাঁদাবাজির' প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ২ ঘণ্টা জটে

“আমরা বারবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালেও তারা সমাধান করেন নাই। উল্টো নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলচ্ছিল।”

নেত্রকোণা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Jan 2024, 02:31 PM
Updated : 23 Jan 2024, 02:31 PM

ট্রাফিক পুলিশের চাদাঁবাজি বন্ধ, মামলা ও দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে নেত্রকোণায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশার শ্রমিকরা। 

এ ঘটনায় নেত্রকোণা পুলিশের পরিদর্শক (ট্রাফিক) মৃদুল রঞ্জন দাস ও টিএসআই আকবর হোসেনকে প্রত্যাহার ও তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা পুলিশ। 

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নেত্রকোণা পৌরসভার সামনের সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় পুরো শহরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়; দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শিবলী সাদিক ট্রাফিক পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিলে বেলা পৌনে ১টার দিকে সড়ক ছাড়েন শ্রমিকরা। 

নেত্রকোণা অটো-টেম্পু ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বলেন, “সিএনজি চালকরা রাস্তায় বের হলেই মামলা ও চাঁদার জন্য হয়রানি করে ট্রাফিক পুলিশ। চাঁদা না দিলে নানাভাবে নির্যাতন করতেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল ও টিএসআই আকবর। 

“এটি আমরা বারবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালেও তারা সমাধান করেন নাই। উল্টো নির্যাতন দিন দিন বেড়েই যাচ্ছিল। তাই আমরা তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছি।” 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ট্রাফিক পুলিশের দুই কর্মকর্তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা সাড়া দেন নাই। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিবলী জানান, সোমবার নেত্রকোণা জেলা শহরের কুড়পার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের এসআই আকবর হোসেনের সঙ্গে অটোরিকশার চালকদের চাঁদা আদায় নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে তিন অটোরিকশা শ্রমিক ও আকবর আহত হন। 

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলাসহ পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও সড়কে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। 

তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ট্রাফিক পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও তদন্ত কমটি গঠনের ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।”