Published : 19 Aug 2025, 07:08 PM
সাধারণত পটল গাছ একবার পানিতে ডুবে গেলে তার পক্ষে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। সেখানে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কুড়িগ্রামের শাকসবজির ক্ষেতগুলো তলিয়েছে দুইবার। তাই চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এসব ক্ষেতে পটল চাষ করা কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ২ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে সবজিচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এখন পর্যন্ত অর্জন করা হয়েছে ৮৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে রোপনকৃত সবজিসহ পটলের ক্ষতি হয়েছে ৮৩ হেক্টর।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ছড়ারপাড় গ্রামে ধরলা নদীর চরাঞ্চলে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে পটল চাষ করেছেন কৃষকরা।
যারা আগাম চাষ করেছেন তারা কিছুটা লাভবান হলেও, পরে যারা পটল চাষ করেছেন তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ছড়ারপাড় গ্রামের সবজি চাষি জামাল ও নূর ইসলাম বলেন, প্রথমে বৃষ্টিতে পটলের ফুলগুলো মারা যায়। পরে সার, কীটনাশক দেয়ার পর আবার কিছু ফুল ধরা শুরু করে। শেষে হঠাৎ করে বন্যা এসে পটলক্ষেত তলিয়ে যায়। এতে সমস্ত পটলক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। বলে খরচের টাকাও তুলতে পারেনি চাষিরা।
একই গ্রামের মমিনুল বলেন, “৩৫ হাজার টাকা খরচ দুই বিঘা জমিতে পটলচাষ করেছি। কিছুটা পটল তুলতে পেরেছি। পরে বন্যা আসায় সম্পূর্ণ ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়।”

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, নদী তীরবর্তী অঞ্চলে যারা পটল চাষ করেছেন, সেগুলো পানিতে ডুবে যায়। পটল একবার পানিতে ডুবে গেলে আর সারভাইব করতে পারে না। এরফলে চাষীদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি পটল ক্ষেত ভেঙ্গে আগামভাবে লাউ, কুমড়া বা বেগুন লাগাতে।