Published : 21 Oct 2022, 06:17 PM
কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে খুলনা-যশোরগামী কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
শুক্রবার সকাল থেকে হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধের ফলে অনেকেই কাউন্টারে এসে ফিরে গেছেন। জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প পথ হিসেবে ট্রেনে, প্রাইভেটকার ও খোলা জিপে করে খুলনায় যাচ্ছেন অনেক যাত্রী।
শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া-যশোর-খুলনা পথে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে কুষ্টিয়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুল ইসলাম জানান।
বাস বন্ধের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি এবং খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে শুক্র-শনিবার বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। যার কারণে খুলনা রুটে বাস চলাচল বন্ধ।
“জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মহাসড়কে নসিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, অতুল, ইজিবাইকসহ তিন চাকার অবৈধ যানবাহন চলাচলের প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।”
বিভিন্ন দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ে গণসমাবেশের ধারাবাহিকতায় শনিবার খুলনা মহানগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করেছে বিএনপি। এ সমাবেশকে ঘিরে দুইদিন বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বাস মালিক সমিতি বলছে, সড়ক-মহাসড়কে নসিমন-করিমন, মাহেন্দ্র, ইজিবাইক চলাচল করছে। এগুলো বন্ধের দাবিতে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

কুষ্টিয়া বাস কাউন্টারে এসে খুলনার অনেক যাত্রীই ফিরে গেছেন উল্লেখ করে তানিয়া খাতুন নামের এক যাত্রী বলেন, “হুট করে এমন বাস বন্ধের ফলে বাস টার্মিনালে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। কদিন পরে পরেই বাস মালিক সমিতি বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এমন ধর্মঘট করার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়।”
রফিকুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী জানান, বাস বন্ধ থাকায় ট্রেনে যেতে হবে। তাই টার্মিনাল থেকে স্টেশনে যাচ্ছি ট্রেনে যাওয়ার জন্য।
সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি খুলনাগামী শিক্ষার্থী ও চাকরির প্রত্যাশীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিন অভিযোগ করেন, “খুলনা গণসমাবেশে আমাদের নেতাকর্মীরা যাতে যেতে না পারে এজন্য বাস বন্ধ হয়েছে। এটা সরকারের একটা চক্রান্ত। এ ছাড়া রাতে আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ গিয়ে হয়রানি করছে; কয়েকজনকে আটক করেছে। তারপরেও আমরা গণসমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য যাচ্ছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সরকার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।”
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী রুমী বলেন, “খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য আমাদের নেতাকর্মীরা বাসের পরিবর্তে ট্রেন, প্রাইভেটকার, ট্রাক, মোটরসাইকেলে খুলনার দিকে যাচ্ছে। সরকার বাস বন্ধ রেখে আমাদের নেতাকর্মীদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”
আরও পড়ুন:
মাগুরা থেকে শুধু খুলনার বাস বন্ধ, বিএনপির ভরসা ট্রেন-ট্রলার
বিএনপির সমাবেশের আগে খুলনায় ৪৮ ঘণ্টার লঞ্চ ধর্মঘট শুরু
বাগেরহাটে বাস বন্ধ: দুর্ভোগে জনসাধারণ, পরীক্ষার্থী
বিএনপির সমাবেশের আগে খুলনায় পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি
খুলনার সমাবেশে যেতে বাস-মাইক্রো ভাড়া পাচ্ছে না মাগুরা বিএনপি
খুলনায় বিএনপির পরে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগও
পরিবহন মালিকরা ধর্মঘট ডাকলে সরকারের দায় কোথায়: কাদের
খুলনার গণপরিবহন বন্ধ করিয়েছে সরকার: ফখরুল