Published : 29 Apr 2026, 07:24 PM
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভারি বৃষ্টিপাতে জলমগ্ন হওয়া কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালার জলাবদ্ধতা নিরসন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আসন বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কেন্দ্রটির পুরাতন ভবন থেকে আসন সরিয়ে শিক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষাগুলো নতুন ভবনে দেওয়ার ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাসরিন জানান।
মঙ্গলবার বৃষ্টিতে নগরীর ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে পানি প্রবেশ করলে পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বেঞ্চের উপর পা তুলে পরীক্ষা দিতে দেখা যায়। পানি থেকে বাঁচতে শিক্ষকরাও চেয়ারে পা তুলে বসেন। এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি নজরে আশায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি কুমিল্লা সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে ফোন করে বিদ্যালয়টির খোঁজখবর নেন। তারপরই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যালয়টির জলাবদ্ধতা নিরসন করা হয়।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কেন্দ্রটি পরিদর্শনের পর পুরাতন ভবনের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হল নতুন ভবনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রুনা নাসরিন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার নিরসনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
তিনি বলেন, নগরীর অধিকাংশ পানি গুইংগাঝুরি খাল হয়ে ডাকাতিয়া নদীতে গিয়ে পড়ে। নগরীর বাইরের অংশে সেই খালে ময়লা ফেলে অনেকটা বাঁধের মতো অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছিল।
“আমরা সারারাত কাজ করে সেটি অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করেছি। এই বিদ্যালয়ে এসেও সেটির ফলাফল দেখেছি; আজকে দেখেন এখানেও জলাবদ্ধতা নেই।”
ঈশ্বর পাঠশালার (উচ্চ বিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষক শুধাংশু কুমার মজুমদার বলেন, “মঙ্গলবার সকালে ভারি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। পরীক্ষা শুরুর সময় কোনো সমস্যা ছিল না। দুপুর ১২টার দিকে পরীক্ষার কক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। তখন ইচ্ছা থাকার পরও পরীক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। শত বছরের পুরোনো বিদ্যালয়ে ভবনের সংকটের কারণে পুরোনো ভবনটিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এখানে জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের।”