Published : 18 Jun 2026, 05:42 PM
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলে এক ছাত্রকে ‘হত্যার’ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ফের থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে রামগঞ্জ থানার সামনে এ বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
এ সময় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা জিয়া উদ্দিন অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেন বলে জানিয়েছেন রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ছাত্রাবাস থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদি হাসানের (১৪) লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
পরিবারের দবি, আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান গেইট ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে উত্তেজিত এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরদিন বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে দুপুরে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী ও স্বজনরা। পরে বিকালে মেহেদির দাফন সম্পন্ন হয়।
একইদিন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি ৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিবৃতি দেয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান।
পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে মেহেদি হত্যার বিচার চেয়ে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেইট থেকে বিক্ষোভ নিয়ে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
এ সময় ঘণ্টাব্যাপী চৌরাস্তা অবরোধ থাকায় লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ও রামগঞ্জ-চাটখিল সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ নিয়ে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে।
মেহেদির মা শারমিন আক্তার বলেন, “একটি আইফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ করে আমার ছেলেসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নিহত মেহেদীর বাবা ও সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিন জিয়া বলেন, “এজাহার জমা দিতে আমাদের সময়ক্ষেপণ হয়েছে। পুলিশ আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনবে।”
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলা রুজু করা হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।
আগের সংবাদ