Published : 16 Mar 2024, 10:50 PM
কুমিল্লায় লেগুনা স্ট্যান্ডের দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় ৩০ ঘণ্টায়ও মামলা হয়নি।
শনিবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মো. জামিল হাসান অর্ণবের (২৭) মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দুপুরে নগরীর শাসনগাছা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন অংশ নেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন রাত ১০টায় বলেন, “হত্যা ও সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
অপরদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। জড়িতদের আটকে পুলিশ তৎপর রয়েছে। কয়েকজন নজরদারিতেও রয়েছে।
মো. জামিল হাসান অর্ণব (২৭) নিহতের ঘটনায় শনিবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
কুমিল্লায় লেগুনাস্ট্যান্ড নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত কলেজছাত্র
জামিল হাসান অর্ণব শাসনগাছা মধ্যপাড়া এলাকার আজহার উদ্দিনের ছেলে। অর্ণব কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বিএসএস (ডিগ্রি পাস) শেষবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন এবং জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন।
এ ছাড়া অর্ণব শাসনগাছা বাস টার্মিনালের সততা বাস সার্ভিসের ব্যবস্থাপক হিসেবেও কাজ করতেন।
অর্ণবের বাবা আজহার উদ্দিন বলেন, “আমার নিরপরাধ ছেলেকে কেন মারল ওরা? তাকে কেন গুলি করা হল? আমার ছেলের তো কোনো অপরাধ ছিলো না।
“এতো অস্ত্র-গুলি ওরা কোথায় পেল। আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। খুনিদের যেন ফাঁসি হয় এটাই আমার চাওয়া।”
তিনি বলেন, “ছেলের দাফন হয়েছে। আমরা মামলার বিষয়ে পারিবারিকভাবে আলোচনা করছি। রাতেই থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করব।”
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কামরান হোসেন বলেন, “নিহতের পরিবারের লোকজন নিজেদের মধ্যে আলোচনা শেষে শনিবার রাতে থানায় এসে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। আর এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।
“আমাদের সব কাজ শেষ পর্যায়ে, তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। থানায় মামলা হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রোববার জেলা পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করবে। সেখানেই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে”, বলেন কামরান হোসেন।
এদিকে, ঘটনার পর শুক্রবার রাতে অস্ত্রধারীদের ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবি সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অস্ত্রধারীদের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন হলেন স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী রাব্বি ও একই এলাকার আলাউদ্দিন। তারা ওই লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রক পক্ষের অনুসারী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাসনগাছা লেগুনা ও সিএনজি অটোরিকশাস্ট্যান্ডের দখল নিয়ে শাসনগাছা মধ্যমপাড়া দফাদার বাড়ি ও মোল্লা বাড়ির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মধ্যমপাড়ার আবুল কাশেমের দলের সঙ্গে মোল্লা বাড়ির রাব্বি ও আলাউদ্দিনের দলের সংঘর্ষ এবং গোলাগুলি হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন অন্তত চারজন। তাদের মধ্যে অর্ণবের বুকের বাম পাশে গুলি লাগে।
পরে গুলিবিদ্ধ চারজনসহ আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অর্ণবকে মৃত ঘোষণা করেন।