ট্রাক চাপায় বরসহ ২ ভাইয়ের মৃত্যুতে বিয়ে বাড়িতে শোকের মাতম

গাজীপুর থেকে আসছিলেন বড় ভাই মনিরুল। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে তাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ফিরছিল ছোট ভাই সাইফুল।

রাজবাড়ী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Feb 2024, 07:29 AM
Updated : 1 Feb 2024, 07:29 AM

পর পর দু’দিন দুই ভাইয়ের বিয়ে-পরদিন একসঙ্গে বৌভাতের অনুষ্ঠান, বাড়ি ভর্তি মেহমানদের মধ্যে তাই আনন্দ আর উৎসবের হুল্লোড়। 

কিন্তু ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে রাজবাড়ী সদর থানার খানখানাপুর ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের মোকছেদ আলী সরদারের বাড়ি জুড়ে এখন চলছে শোকের মাতম। 

বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মোকবুলের দোকান এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার এসআই এম আল মামুদ।

নিহতরা হলেন, মোকছেদ আলী সরদারের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৩২) ও সাইফুল ইসলাম (২৭)। 

নিহতের ফুফাতো ভাই বিল্লাল শেখ বলেন,  বৃহস্পতিবার মেজভাই শামীউল আর শুক্রবার ছোট ভাই সাইফুল ইসলামের বিয়ে। শনিবার এক সাথে দু’জনের বৌভাত হওয়ার কথা। 

দুই ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে গাজীপুর থেকে আসছিলেন বড় ভাই মনিরুল। তাই মধ্যরাতে মোটরসাইকেল নিয়ে ছোট ভাই সাইফুল তাকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে আনতে যায়।

ফেরার পথে মহাসড়কের মকবুলের দোকান এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা মাটি টানা ট্রাক তাদের চাপা দেয়। স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। 

আরেক স্বজন আইয়ুব আলী বলেন, দুই ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের ভিড় রয়েছে। বিয়ের সব আয়োজন শেষ হয়েছে। কিন্তু ঘাতক ট্রাক সব শেষ করে দিয়েছে। বিয়ে বাড়ি শোকের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। 

আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার এসআই মামুদ বলেন, মোটরসাইকেল আরোহী দু’জন দৌলতদিয়া থেকে আসছিল। সে সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মাটিবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। 

“এতে মোটরসাইকেল চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়, অপরজনকে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। ” 

এসআই আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি আটক করে। তবে ট্রাকের চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। 

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখানে দায় কার সেটা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কারণ দুর্ঘটনাটা রাতে ঘটেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে বলা যাবে।”