Published : 19 Sep 2025, 01:14 PM
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে চারটি মাজারে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
হোমনা থানার এসআই তাপস কুমার সরকার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন বলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হাত মাইকে ঘোষণা দিয়ে চারটি মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় একটি মাজার সংলগ্ন তিনটি ঘরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সি মো. মহসীন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মহসীন হোমনার ফকিরবাড়ির আলেক শাহর ছেলে।
এসআই তাপস বলেন, “অজ্ঞাত পরিচয় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ লোক মব সৃষ্টি করে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ।
“আমরা মামলার তদন্ত শুরু করেছি। কিছুদূর কাজ করি, তারপর বিস্তারিত বলা ঠিক হবে।”
ঘটনার বর্ণনায় স্থানীয়রা বলেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ‘বেমজা মহসিন’ নামের একটি আইডি থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) কটূক্তি করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। তখন তারা মহসীনের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের মুখে পুলিশ মহসীনকে গ্রেপ্তার করে থানা নেয়।
ওই দিন সন্ধ্যায় ‘বাংলাদেশ ইসলামী যুব সেনা’ হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম মহসীনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হোমনা থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মহসীনকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়।
এর জের ধরে সকালে উত্তেজিত জনতা জড়ো হন। এ সময় হাত মাইকে মাজার ও বাড়িতে হামলার ঘোষণা দেন। তারা প্রথমে মহসিনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। পরে সেখানে থাকা কফিল উদ্দিন শাহর মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সবশেষ মাজারের চত্বরে থাকা তিনটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে হামলাকারীরা। এতে সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র পুড়ে যায়।
এরপর হামলাকারীরা মিছিল নিয়ে গ্রামের আবদু শাহর মাজার, কালাই (কানু) শাহর মাজার এবং হাওয়ালি শাহর মাজারে ভাঙচুর করে। হাওয়ালি শাহর মাজার চত্বরেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
শুক্রবার সকালে হোমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে আসাদপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।