Published : 13 Jul 2026, 04:34 PM
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে কুমিল্লা নগরীর একটি কেন্দ্র পরিবর্তন করেছে শিক্ষা বোর্ড।
সোমবার সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীকে কোমর পানি ভেঙে হলে গিয়ে ভেজা কাপড়ে তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। অনেকে সময়মত পৌঁছাতে পারেননি।

পরীক্ষা শেষে কুমিল্লা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজকেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা নগরীর অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়ে পরীক্ষা দেবে। পরবর্তীতে অন্যান্য পরীক্ষার জন্য যে সিদ্ধান্ত হয়, সেটি আবারও জানিয়ে দেওয়া হবে।”
পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বলেন, ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত কুমিল্লাতে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতি ভারি বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
এর মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজকেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দুটি নৌকা ও দুটি ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সামনে দিয়ে সদর হাসপাতালে আসা-যাওয়াকারীদেরও পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।
পরীক্ষা চলার সময় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কাজী আপন তীবরানি বলেন, “যখন পরীক্ষা শুরু হচ্ছিল তখন বৃষ্টিও হচ্ছিল। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রচুর পানি জমে যায়। যে কারণে পরীক্ষার্থীদের আসতে দেরি হওয়ায় আমরা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে ৩০ মিনিট বেশি পরীক্ষা নিয়েছি এই কেন্দ্রে।”
পরীক্ষা শেষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থী মাহিন আহমেদ বলেন, “আজকে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। বাসা থেকে রিকশা নিয়ে এসে ঠিক কেন্দ্রের সামনে কোমর সমান পানিতে ভিজে গেছি। এই নিয়ে টানা তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। জ্বর উঠে গেছে। অনেকেরই একই অবস্থা।”
একই কলেজের শিক্ষার্থী সামন্তর রহমান বলেন, “মেয়ে পরীক্ষার্থী যারা বোরকা পরে এসেছে, তাদের অবস্থা আরও বেশি খারাপ। সারাক্ষণ ভেজা জামা-কাপড় পরে থাকায় অনেকেরই শরীর খারাপ করেছে। এভাবে পরীক্ষা দিতে এসে মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না।”
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে শত শত অভিভাবককে দেখা গেছে, পানিতে দাঁড়িয়ে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করতে।
একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে অভিভাবক মনোয়ারা বেগম বলছিলেন, “শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এসে মানসিকভাবে ভোগান্তির শিকার হয়েছে। আর যারা দীর্ঘক্ষণ পরীক্ষা দিয়েছে তাদের শরীর ও খারাপ করবে। কিছুই করার নাই, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে কথা। তবে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের উচিত যেসব কেন্দ্র এমন পানির নিচে তলিয়ে যাবে, সেগুলোর বিষয়ে আগে থেকেই চিন্তাভাবনা করে রাখা।”
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “করপোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি অপসারণের। ভারি বৃষ্টিপাতে এই ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। আমি এবং আমার সিটি করপোরেশনের দল সারাক্ষণ মাঠে আছে।”