Published : 30 Apr 2026, 01:50 PM
জাটকা সংরক্ষণে অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার শেষ হতে চলায় নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাঁদপুরের মেঘনা পাড়ের জেলেরা।
দুই মাস পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে জেলার অর্ধলক্ষাধিক জেলে মাছ ধরতে নদীতে নামবেন। একে ঘিরে জেলে পাড়াগুলো এখন সরগরম হয়ে উঠেছে।
জেলেদের কেউ কেউ মেরামত করা জাল গুছিয়ে নিতে, কেউ কেউ অন্য প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মিস্ত্রিরা সারাই করা নৌকার টুকটাক কাজ শেষ করছেন। আবার কেউ কেউ সব প্রস্তুতি সেরে সঙ্গীদের নিয়ে নৌকা নদীতে নামানোর চেষ্টা করছেন।
বৃহস্পতিবার চাঁদপুর সদর উপজেলার পুরান বাজার রনাগোয়াল, দোকানঘর, বহরিয়া, হরিণা ঘাট এবং আনন্দ বাজার এলাকায় বিভিন্ন পাড়া ঘুরে জেলেদের এমন প্রস্তুতি দেখা যায়।
আনন্দ বাজার এলাকার জেলে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানলেও আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন আবার জাল-নৌকা প্রস্তুত করেছি নদীতে নামার জন্য।”
বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম বলেন, “নৌকা-জাল মেরামত করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন যদি ইলিশ পাওয়া যায়, তাহলেই ঋণ শোধ দেয়া যাবে এবং সংসারও চলবে।”
একই এলাকার জেলে ফারুক গাজী বলেন, “আমার নৌকায় সাত জন কাজ করে। ইলিশ পাওয়ার আশায় ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হয় কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে তাতে সংসার চলে না।”
মৎস্য বিভাগ বলছে, চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীতে এ বছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হওয়ায় ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, “মার্চ ও এপ্রিল নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা দিন ও রাতে অভিযান পরিচালনা করেছি।
“যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরেছে এমন প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযানের ফলে যেমন জাটকা রক্ষা হয়েছে, তেমনি জাতীয়ভাবে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি সহায়ক হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ৪ মাস ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি বিজিএফ চাল দিয়েছে। পাশাপাশি এ বছরই প্রথম জাটকা প্রবণ এলাকার জেলেদের চালের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”