Published : 27 May 2026, 11:25 AM
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বৃষ্টি ও একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের দীর্ঘ এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত থেকেই যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে যানজটের সৃষ্টি হতে থাকে। পরে সেতুর উপর ও সেতুর সংযোগ সড়কে রাতে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ায় তা বাড়তে থাকে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের খুব কষ্ট হচ্ছে।
বুধবার সকালে তা কিছুটা কমে সেতুর টোল প্লাজা থেকে সদর উপজেলার করটিয়া বাইপাস পর্যন্ত অন্তত ২৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. শরীফ বলেন, রাতভর বৃষ্টি, বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হওয়ায় মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে থেমে থেমে জট সৃষ্টি হচ্ছে। ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।
তবে ঠিক কতো কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট ছড়িয়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।
ঢাকা থেকে আসা রাজশাহীগামী বাসের যাত্রী তানবির হোসেন বলেন, “চন্দ্রা থেকে যানবাহনের ধীর গতি। টাঙ্গাইল থেকে যানজট। দেড় ঘণ্টার সড়ক আসতে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা। মহাসড়কের পৌলিতে এসেও আটকে আছি। ”
নারী যাত্রী আফরোজা বেগম বলেন, “আমি নাটোর যাবো। ঢাকার পর থেকেই এ পথে গাড়ি আস্তে আস্তে চলেছে। আর টাঙ্গাইলের ঘারিন্দার পর থেকে যানজটে থেমে গেছে। ৯ ঘণ্টায়ও টাঙ্গাইল পার হতে পারলাম না।”

বৃষ্টির মধ্যে ট্রাকে করে রওয়ানা হওয়া যাত্রী লিয়াকত মিয়া বলেন, “কোন বাসেই আসন ফাঁকা নেই। দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। বাধ্য হয়ে তিন গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ট্রাকে যাচ্ছি। বৃষ্টিতে ভিজে গেছি, তার মধ্যে এমন যানজটে অনেক কষ্ট হচ্ছে।”
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “রাতে বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে কিছুটা জটলা রয়েছে। আশা করি বেলা বাড়ার সাথে সাথে স্বাভাবিক হবে “
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, “ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে পুরো সড়কেই যানবাহনের চাপ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে ধীর গতি রয়েছে। আমরা কাজ করছি, আশা করি দ্রুত সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”