Published : 22 Jun 2026, 08:41 PM
ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি হেফাজতে থাকার সময় মারা যাওয়া ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার বাদ জোহর মধুখালী উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার জানাজার নামাজ হয়। জানাজায় ইমামতি করেন নিহতের ছোট ভাই ১২ বছর বয়সী মির্জা আব্দুস সামাদ।
পরে উপজেলার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন মধুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলিম মানিক এবং মধুখালী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হায়দার আলী মোল্লা।
এ সময় পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন নিহতের চাচাতো ভাই মির্জা শাহরিয়ার লোটাস।
জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও শত শত লোক অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মধুখালীর গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করে। পরে তাকে মধুখালী থানায় নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে মাদক সংক্রান্ত আরও কয়েকটি অভিযানের পর ভোরে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। রোববার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্রান্ত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মির্জা এসকেন্দারের ছেলে এবং ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্বজনদের ভাষ্য, সম্প্রতি বাবার মৃত্যুর পর তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি মধুখালী চিনিকলে চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রান্তের মামা মিন্টু মোল্লা বলেন, ফরিদপুরে পড়াশোনার সময় প্রান্ত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি সংগঠনটির কোনো পদে ছিলেন না।
আরও পড়ুন:
ফরিদপুরে ডিবির হেফাজতে থাকা যুবকের মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ
ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি