০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি

রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি
ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jun 2026, 08:40 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:24 PM

ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে জেলা পুলিশ।  

রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। পরিবারের দাবি, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।

সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামসুল আজম এবং ডিএসবির ওসি মোশাররফ হোসেন। তাদেরকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মির্জা এসকেন্দারের পুত্র এবং ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

সম্প্রতি বাবা মারা যাওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মধুখালী চিনিকলে চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। তার মা ও এক ভাই রয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম গাজাসহ প্রান্তকে আটক করে ৷

পরে তাকে মধুখালী থানায় নেওয়া হয়। এরপর মাদক সংক্রান্ত আরও অভিযান শেষে ভোরে তাকেসহ চারজনকে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হয় এবং ডিবি হেফাজতে রাখা হয়।

ওসি বলেন, “ভোর ৪টায় তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে রাখা হয় এবং কক্ষটিতে বৈদ্যুতিক পাখারও ব্যবস্থা ছিল। ছেলেটি সেখানে ফজরের নামাজও আদায় করে। এরপর ও নিজেই অন্যদের জানায়- ‘শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে’।

“তখন আমাদের জানানো হলে তাৎক্ষণিক ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং সেখান থেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আলমগীরের দাবি, “তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে এবং ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।”

তবে ডিবি পুলিশের নির্যাতনে প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছে পরিবার ও স্বজনরা।

প্রান্তর মা মির্জা খাদিজা আক্তার নিপা বলেন, “প্রান্তকে আমার সামনে থেকেই বেধড়ক মারপিট করতে করতে নিয়ে যায়। আমার ছেলেকে নির্যাতন করেই হত্যা করা হয়েছে।”

তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

প্রান্ত ফরিদপুরে পড়াশোনার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তার মামা মিন্টু মোল্লা বলেছেন। যদিও তার কোনো পদ-পদবি ছিল না। 

ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যার পর পুলিশ পরিবারের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেছে। 

মিন্টু মোল্লা বলেন, সোমবার প্রান্তর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।     

আরও পড়ুন:

ফরিদপুরে ডিবির হেফাজতে থাকা যুবকের মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ