Published : 02 Jun 2026, 08:28 PM
সিরাজগঞ্জে অনলাইনে অল্প সময়ে বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যিনি নিজেকে ‘জিনের বাদশা পরিচয়’ দিতেন বলে ভাষ্য পুলিশের।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ।
এর আগে সোমবার রাতে সলঙ্গা উপজেলার বনবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আব্দুল হামিদ (৩৩) ওই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ বলেন, ‘ইকো ভোল্ট’ নামের একটি সোলার প্যানেল প্রতিষ্ঠানের অ্যাপসের মাধ্যমে ডিপোজিট করার লোভনীয় অফার দিয়ে সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মমতাজ বেগমের মাধ্যমে ১০০ গ্রাহক সংগ্রহ করেন আব্দুল হামিদ।
“গ্রাহকরা মমতাজ বেগমের মাধ্যমে সেখানে প্রথমে প্রায় ১১ লাখ টাকার ডিপোজিট করেন। এরপর নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে সিইএফ নামের অপর একটি অ্যাপসে টাকা ইনভেস্ট করতে বলেন হামিদ। সেখানেও ছয় লাখ টাকা জমা দেন গ্রাহকরা”, বলেন তিনি।

নাজরান রউফ বলেন, “২ মে মমতাজসহ অন্য গ্রাহকরা ‘ইকো ভোল্ট’ অ্যাপসে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখেন, সেটি ডিজেবল হয়ে গেছে। এরপর সিইএফ অ্যাপসে বেশি বেশি ইনভেস্ট করার জন্য লোভনীয় প্রস্তাব দেন হামিদ। সেখানে আরও চার লাখ টাকা ডিপোজিট করেন তারা।
“এক পর্যায়ে গ্রাহকরা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে একটি ফেইসবুক আইডি থেকে আব্দুল হামিদ নিজেকে ৪০০ বছর বয়সী ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন।”
এ অবস্থায় সোমবার মমতাজ বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান নাজরান রউফ।
তাকে গ্রেপ্তারের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্যাব, একটি স্মার্টফোন ও অ্যাপস সম্পর্কে বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করা হয় বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার বিকালে আব্দুল হামিদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।