Published : 08 Jun 2026, 03:25 PM
পঞ্চগড় সদর উপজেলা বড়বাড়ি সীমান্তে প্রায় ৭২ ঘণ্টার উত্তেজনার পর নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী-বিএসএফ।
এ ঘটনায় সোমবার উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে উত্তেজনা শেষ হয় বলে জানান নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, রোববার গভীর রাতে বিএসএফ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়ার ইচ্ছা জানায়। পরে বিজিবি এতে সম্মতি দেয় এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিএসএফকে চাপ দেয়।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিজিবি শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে যে, কোনো ধরনের পুশইন গ্রহণযোগ্য নয়। বিএসএফকে এ বিষয়ে আমাদের আপত্তি জানানো হয়েছে। পরে তারা ওই ব্যক্তিদের একটি ক্যাম্পে নিয়ে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, রোববার রাত ২টার দিকে সীমান্তের লাইট নিভিয়ে বিএসএফ সদস্যরা ১০ জনকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তারা গাড়িতে তুলে পাশের ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
আরেক বাসিন্দা আজাদ বাবু বলেন, তারা সীমান্তে পুশইনের ঘটনা মানতে চান না। এতে সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয় এবং স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবির বাধার কারণে তারা প্রবেশ করতে পারেনি এবং সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করতে বাধ্য হয়।
তিন দফা পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হলো।
আরও পড়ুন:
৬২ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় ১০ জন: ‘মানুষগুলো এভাবে কতদিন থাকবে, সেটাই প্রশ্ন’