Published : 08 Sep 2025, 09:06 PM
সরকার হিমাগারের গেইটে আলুর দাম কেজিপ্রতি ২২ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে মাত্র ১২-১৩ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন লালমনিরহাটের চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
অপরদিকে বাজারে দাম কম থাকায় হিমাগার থেকেও আলু নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মালিকরা।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, হিমাগারে রাখা আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। ৬০ কেজির এক বস্তা আলু উৎপাদন খরচ ও ভাড়া মিলে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০০–৮০০ টাকায়। ফলে প্রতি বস্তায় অন্তত ৬০০ টাকা লোকসান হচ্ছে।
হিমাগার মালিকরা জানান, গত বছর এই সময়ে ৫০ শতাংশের বেশি আলু বিক্রি হলেও এবার তা ১০ শতাংশেরও কম।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, “কৃষকরা আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে।”

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সাত হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে দুই লাখ চার হাজার মেট্রিক টন। জেলার নয়টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার মেট্রিক টন আলু। উৎপাদন বেশি হওয়ায় মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকরা আশানুরূপ দাম পাননি।
আদিতমারী উপজেলার কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “লাভের আশায় হিমাগারে ১০০ বস্তা আলু রেখেছিলাম। দুই মাস পর বিক্রি করে হাতে এসেছে মাত্র ২৮ হাজার টাকা। অথচ মৌসুমে বিক্রি করলে পেতাম প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এভাবে আলু চাষ করে আমরা এখন নিঃস্ব।”
একই উপজেলার ফারুক হোসেন বলেন, “৫০ বস্তা আলু রেখেছি স্থানীয় হিমাগারে। কিন্তু দাম না থাকায় তুলতে পারছি না। এখন তুললে ২০ হাজার টাকার মতো লোকসান হবে।”
কালীগঞ্জের চাপারহাট বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আলুর দাম বাড়লে সরকারি সংস্থা দাম নিয়ন্ত্রণে নামে। কিন্তু দাম পড়ে গেলে কারও কোনো খোঁজ থাকে না। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই সর্বনাশে পড়েছে।"
আদিতমারী উপজেলার আবুল কাশেম হিমাহারের মালিক আব্দুল হাকিম বলেন, “এবার কৃষকরা আলু তুলতে আসছেন না। গত বছর অগাস্টের মধ্যে যেখানে ৫০-৬০ হাজার বস্তা আলু বের হয়েছিল, এবার গেছে মাত্র ১০-১৫ হাজার বস্তা।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইখুল আরেফিন বলেন, “চলতি মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে দুই লাখ চার হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৭৮ হাজার মেট্রিক টন আলু হিমাগারে মজুদ আছে।”