Published : 20 Apr 2026, 04:29 PM
গরম এলেই শুধু ঘাম বা ত্বকের সমস্যা নয়, ঠোঁট ফেটে যাওয়ার সমস্যাও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শীতকালে ঠোঁট ফাটে বেশি। তবে তীব্র গরমেও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। এর পেছনে রয়েছে শরীরের ভেতর ও বাইরের নানান কারণ।
ঠোঁটের ত্বক যে কারণে সংবেদনশীল
ঠোঁটের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি পাতলা এবং সংবেদনশীল। এখানে ঘাম গ্রন্থি বা তেল গ্রন্থি খুব কম থাকে। ফলে ঠোঁট নিজের মতো করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না।
তীব্র গরমে যখন শরীর থেকে ঘাম বের হয়, তখন পানিশূন্যতা তৈরি হয়। এই অবস্থায় ঠোঁট দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
গরমে পানিশূন্যতা: সবচেয়ে বড় কারণ
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপ-বিশারদ শারমিন কচি ঠোঁট এই বিষয়ে বলেন, “গরমকালে প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করলে, রোদে বের হলে, ঘাম হলে শরীরের পানি কমে যায়- এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঠোঁটে।”
ফলে ঠোঁট শুকিয়ে যায়, খোসা ওঠে, এমনকি ফেটে গিয়ে রক্তও বের হতে পারে। অনেকেই এটাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়ায়। তবে এটি শরীরের পানিশূন্যতার একটি স্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে- মন্তব্য করেন এই রূপচর্চাকর।
রোদ ও অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব
তীব্র রোদে থাকা ঠোঁটের জন্য বেশ ক্ষতিকর। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ঠোঁটের ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয় এবং ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
শারমিন কচি বলেন, “যারা নিয়মিত বাইরে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন, তাদের ঠোঁট ফাটার সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনেক সময় ঠোঁট কালচে হয়ে যাওয়ার পেছনেও এই রোদই দায়ী।”
বারবার ঠোঁট ভেজানো
ঠোঁট শুকিয়ে গেলে বারবার জিভ দিয়ে ভেজানো অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়। এতে সাময়িক আরাম লাগলেও, সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
লালা দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং ঠোঁটকে আরও শুষ্ক করে তোলে। ফলে ফাটা আরও বাড়ে, আর জ্বালাপোড়া শুরু হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির ঘাটতি
শুধু আবহাওয়াই নয়, ভেতরের কিছু কারণও ঠোঁট ফাটার জন্য দায়ী।
“ভিটামিনের ঘাটতি, বিশেষ করে বি-ভিটামিন বা আয়রন বা লৌহের অভাব। অস্বাস্থ্যকর খাবার, অতিরিক্ত ঝাল বা ভাজাপোড়া খাবারও ঠোঁটের শুষ্কতা বাড়াতে পারে”- বলেন এই রূপবিশেষজ্ঞ।
গরমে শরীর যখন আগেই দুর্বল থাকে, তখন এই ঘাটতিগুলো আরও বেশি প্রভাব ফেলে।
গরমে ব্যবহৃত কিছু অভ্যাসও দায়ী
গরমে অনেকেই ঠাণ্ডা পানীয় বা আইসক্রিম বেশি খান। আবার ঠোঁটের যত্নে ভুল প্রসাধনীও ব্যবহার হয়।
“কিছু লিপস্টিক বা ‘লিপ প্রোডাক্টে’ থাকা রাসায়নিক উপাদান ঠোঁটকে আরও শুষ্ক করে ফেলতে পারে। ফলে ঠোঁট ফাটার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়” বলেন- শারমিন কচি।
যেভাবে এই সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়
গরমে ঠোঁট ভালো রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল- শরীরকে ‘হাইড্রেইট’ বা আর্দ্র রাখা। পর্যাপ্ত পানি পান, ফলমূল খাওয়া এবং নিয়মিত ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রয়োজন- পরামর্শ দেন এই রূপ-বিশারদ।
রোদে বের হলে ঠোঁট ঢেকে রাখা বা সুরক্ষামূলক ‘লিপ বাম’ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।
প্রাকৃতিক উপায়েও ঠোঁটের যত্ন নেওয়া যায়। রাতে অল্প নারকেল তেল বা মধু ব্যবহার করা উপকারী। এতে ঠোঁট নরম থাকে এবং ফাটা কমে বলে মত দেন- শারমিন কচি।
আরও পড়ুন