Published : 31 Jul 2025, 11:27 AM
ইতালিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে কাঁচা মাছ-মাংসের পানি বের হয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর ফিরতি ফ্লাইটের ৪ ঘণ্টা বিলম্ব ঘটেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে দেশটির রাজধানী রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে৷
সেদিন যাত্রীদের ব্যাগেজ গ্রহণ করার বেল্টে বাংলাদেশ থেকে আনা খাবারের পানি পড়ে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়ায়। তখন সেখানে থাকা অন্য ফ্লাইটের যাত্রীরা বিষয়টি নিরাপত্তা কর্মীদের জানান। এরপর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি সব যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে বিভিন্ন ধরনের পচনশীল খাবার জব্দ করে।
জানতে চাইলে ইতালিতে বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই মুহূর্তে আমি বাংলাদেশে রয়েছি। তবে সেখানে থাকা আমার সহকর্মীদের থেকে জানতে পেরেছি যে- ফিউমিচিনো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের ফ্লাইটের কিছু যাত্রীদের ব্যাগে পচনশীল খাবারের সন্ধান পেয়েছে; যা থেকে বিমানবন্দরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে
“বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকায় অবহিত করলে তারা তদন্তের কথা জানিয়েছে।”
এ ঘটনায় রোম থেকে ঢাকার ফিরতি ফ্লাইটের ছাড়পত্র পেতে প্রায় ৪ ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। স্থানীয় সময় ৭টা ২০ মিনিটে রোম ছাড়ার কথা থাকলেও ছাড়পত্র পেতে দেরি হওয়ায় ফ্লাইটটি ছাড়ে রাত ১২টা ৪ মিনিটে। তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকামুখী যাত্রীরা।
বিমানের যাত্রী রায়হান খান মোবাইলে বলেন, “রোম থেকে নির্ধারিত সময়ের ৪ ঘণ্টা পর ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমান ছেড়েছে। তারা বলেছে, রোমের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো ফ্লাইট ছাড়ার অনুমতি দেয়নি বলে এতো দেরি হয়েছে।”
নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই ফ্লাইটের এক ক্রু বলেন, “খাবারের গন্ধের ঘটনা ব্যাগেজ এরিয়াতে ঘটেছে বলে শুনেছি। এরপর নিরাপত্তা কর্মীরা বিমানের কার্গো ডেক পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমাদের ফ্লাইট ছাড়ার অনুমতি দেন।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ইতালির দূরত্ব প্রায় ৬ হাজার ৯০০ কিলোমিটার হওয়ায়- এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অনেক খাবার নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে।”
সিভিল অ্যাভিয়েশনের নীতি না মেনে মাছ-মাংস পরিবহন করলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তা বাজেয়াপ্ত করতে পারে।
ঢাকা থেকে কীভাবে এসব পণ্য ছাড়া হয়, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
রোম প্রবাসী ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “কী কী ধরনের পণ্য পরিবহন করা যায়, সে বিষয়ে যাত্রীদের আগে থেকে ধারণা দিলে হয়তো ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।”