Published : 03 May 2026, 08:25 AM
মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ ওমান। সেখানে অবস্থানরত কয়েক লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য দেশটির মাসকাটে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কেবল কূটনৈতিক দপ্তর নয়, বরং পাসপোর্ট, আইনি সহায়তা ও কনস্যুলার সেবার প্রধান ভরসাস্থল।
দীর্ঘদিন ধরে এই সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি, বিশৃঙ্খলা এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিগত বছরগুলোতে ওমান প্রবাসীদের সাধারণ অভিযোগ ছিল—পাসপোর্ট নবায়ন বা কনস্যুলার সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ।
তবে বর্তমান রাষ্ট্রদূত খন্দকার মিসবাহ উল আজিম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেবা প্রদান পদ্ধতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে, সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ বা নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে আগের মতো জটলা ও বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে ‘কমেছে’ বলে সেবাপ্রার্থীদের অভিমত।
দূতাবাসে সেবা নিতে আসা সাধারণ প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান প্রক্রিয়ায় হয়রানির সুযোগ কমেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, “আগে দূতাবাসে আসার পর কাজের নিশ্চয়তা পাওয়া কঠিন ছিল, এখন অন্তত নির্দিষ্ট সময়ে সেবা পাওয়া যাচ্ছে।”
চাঁদপুরের মো. মুজিবুর রহমানের মতে, “সময়ের অপচয় কম হওয়াটাই একজন প্রবাসী শ্রমিকের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”
পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিরাও এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম ও চট্টগ্রামের পটিয়ার মো. নাজিম মনে করেন, দূতাবাসকে দালালমুক্ত করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়া উচিত।
তাদের মতে, বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ প্রবাসীরা এখন সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন।
দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর রাফিউল ইসলাম এই প্রশাসনিক গতিশীলতা প্রসঙ্গে বলেন, “প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ফলে সেবার মান বেড়েছে এবং প্রবাসীদের আস্থাও ফিরেছে। আমাদের মূল লক্ষ্য প্রতিটি আবেদন দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করা।”
রাষ্ট্রদূত খন্দকার মিসবাহ উল আজিম বিষয়টিকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, দূতাবাসকে প্রবাসীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পেশাদারিত্বের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দালালের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি সেবা প্রদান নিশ্চিত করাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
প্রবাসীরা মনে করছেন, জনবল সংকট বা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও যেভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তবে এই ধারা অব্যাহত রাখতে তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।