মালদ্বীপে পৌঁছেই প্রবাসীর মৃত্যু, পরদিন মারা গেলেন আরেকজন
মালেতে বাংলাদেশ হাই কমিশন তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৪২ বছর বয়সি আব্দুল গাফফার। তবে দেশটিতে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থামল তার সেই স্বপ্ন।
অন্যদিকে, একদিনের ব্যবধানে একইভাবে ঘুমের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন সুশান্ত চন্দ্র কোচ (৩০) নামে আরও এক প্রবাসী বাংলাদেশি।
বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী মালেতে বাংলাদেশ হাই কমিশন তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতদের মধ্যে আব্দুল গাফফারের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেত্রাহাট এলাকায়, বাবার নাম মো. আবু বক্কর মন্ডল। আর মারা যাওয়া অন্য প্রবাসী সুশান্ত চন্দ্র কোচের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার নলুয়া গ্রামে, বাবার নাম সতীশ চন্দ্র কোচ।
প্রবাসীরা জানান, ধারদেনা করে গত ৬ অক্টোবর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালদ্বীপে আসেন আব্দুল গাফফার। দেশটিতে পৌঁছানোর পর রাতে সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।
গাফফারের সহকর্মী মো. আল আমিন জানান, ওইদিন রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে সহপাঠীরা তার কাছে বিষয়টি জানতে চান। তবে তিনি নিজেকে ‘ঠিক আছেন’ বলে জানান এবং আবারও ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে কর্মস্থলের মালিককে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গাফফারকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, অনেক আগেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, মালদ্বীপের কুলহুডুফুশি দ্বীপে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে বৈধভাবে কর্মরত ছিলেন সুশান্ত চন্দ্র কোচ। পরিবারের ভাগ্য বদলাতে প্রায় এক বছর আগে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
সুশান্তের সহকর্মী এনামুল জানান, গত ৭ অক্টোবর রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন সুশান্ত। রাতের কোনো একসময় ঘুমের মধ্যে তার চিৎকার শুনে সহকর্মীরা ছুটে আসেন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৮ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানান, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
দুই প্রবাসীর এমন মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাই কমিশন। দুই প্রবাসীর লাশ দেশে পাঠাতে পরিবার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।
