Published : 17 Jul 2023, 09:30 PM
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিয়েছে, তাতে সাংবিধানিক সংস্থাটির ‘আত্মপ্রতারণা’ দেখতে পাচ্ছে ১০টি দল। নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টিসহ নিবন্ধন না পাওয়া এই দলগুলো এখন ইসি ঘেরাওয়ের চিন্তা করছে।
নিবন্ধনের আবেদন করেও না পাওয়া দলগুলো ইসির সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া এবং নিজেদের পরবর্তী কর্মপন্থা জানাতে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে।
সেখানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আপনারাই (সাংবাদিকরা) বলুন এই যে- এতগুলো সুপরিচিত, সক্রিয় এবং রাজপথের সংগ্রামরত রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে যাদের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, তাদের নাম আপনারা ক’জন শুনেছেন? তাদের কি আদৌ কোনো অফিস, নেতা-কর্মী আছে?
‘‘আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে পরিচিত ও স্বীকৃত ক্রিয়াশীল দলগুলোকে নিবন্ধন না দেওয়ার মাধ্যমে তারা নিজেদের সাথে আত্মপ্রতারণা এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত সমস্ত আইন-কানুনকে ভঙ্গ করেছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রেসক্রিপশনে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে পরিচিত ও স্বীকৃত ক্রিয়াশীল দলগুলোকে বাদ দিয়ে অখ্যাত অপরিচিত দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।”
এখন নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মান্না বলেন, “যার যার জায়গা থেকে আপনারা এই সরকার ও তার ঘৃণ্য দালাল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তাদের মুখোশ খূলে দিন। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এবং যার যার দলীয় প্ল্যাটফর্ম থেকে এই অন্যায়, অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলব।
“আমরা হয়ত শিগগিরই সকল দল নিয়ে বসব এবং পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করব।”
গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দল আগামী ২৬ জুলাইয়ের আগেই নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে মান্না জানান।

গত রোববার নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছিলেন, নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) নির্বাচিত হয়েছে।
২৬ জুলাই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। নিবন্ধন পেলে এই দলগুলো দলীয় প্রতীকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
২০২২ সালের মে মাসে নতুন দলের নিবন্ধন আবেদন চায় ইসি। নির্ধারিত সময়ে শখানেক নতুন দল নিবন্ধন পেতে আবেদন করে। এরমধ্যে প্রাথমিক বাছাইয়ে ঝরে পড়ে ৮৭টি আবেদন, টিকে থাকে ১২টি দল। তার মধ্য থেকেই বিএনএম ও বিএসপিকে নির্বাচিত করেছে ইসি।
এর বাইরে যে ১০টি দল তালিকায় ছিল, তার মধ্যে আছে- নাগরিক ঐক্য, এবি পার্টি (আমার বাংলাদেশ পার্টি), গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি (বিএসইচপি), ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজিপি), বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি), বাংলাদেশ সনাতন পার্টি, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএলডিপি)।
জাসদ, বাসদ, আওয়ামী লীগ করে নতুন দল গড়া মান্না নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশন গত ১ বছর ধরে যাচাই-বাছাই এর নোটিস দিয়ে আবার কোথাও কোথাও আচমকা ভিজিট করে আমাদের দলসমূহের কেন্দ্রীয় অফিস, জেলা-উপজেলা অফিস পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনের নামে তারা যেভাবে আমাদের তৃণমূলে অফিসের দলিল, সাইনবোর্ড, আমাদের নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তাতে মনে হয়েছে তারা যেন রাজনৈতিক দল নয় বরং আসামীদের তালিকা হাল-নাগাদ করেছেন।”
ডাকসুর সাবেক ভিপি মান্না বলেন, ‘‘সরকার কতখানি অন্যায় করছেন, কেবল মাত্র নিজেদের একটা ষড়যন্ত্র জাল- যেটা বিছিয়েছেন, সেটাকে দিয়ে তার শিকার ধরার জন্য। এই নির্বাচন কমিশনের বিন্দুমাত্র নিরপেক্ষতা নাই। সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য গঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে।
‘‘অবসরপ্রাপ্ত কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার জন্য এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পুরস্কারের লোভে তারা তস্য দালালের মত ফ্যাসিস্টদের স্বার্থে যে কোনো বা সকল বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে পারে এবং হয়। আপনহীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মতলবাজ এমন গণবিরোধী সরকারি কর্মকর্তাগণ দেশে জনপ্রতিনিধিত্বহীন সরকার টিকিয়ে রাখতে বেহায়া ও নিলর্জ্জ আচরণ করেন।”
ইসির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাইলেন মঞ্জু
জামায়াতে ইসলামী থেকে বেরিয়ে আসাদের দল এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “গণতন্ত্র ও নির্বাচনের পথ রূদ্ধ করবে, তাদের ব্যাপারে আপনারা জানেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতির একটা শর্ত দেওয়া হয়েছে। আপনারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যদি এই ভিসানীতির পরে একটা সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকে- গণতন্ত্র এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থার পথ রূদ্ধ করেছে, এই স্যাংশন কার পড়া উচিত সর্বপ্রথম?”

এ সসময় সংবাদ সম্মেলনে আসা নেতাকর্মীরা ‘সিইসিসহ বর্তমান নির্বাচন কমিশন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মঞ্জু বলেন, “আমরা সুস্পষ্টভাবে এখান থেকে দাবি করছি- এই সমস্ত বিবেকহীন লোকদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে-জাতীয়ভাবে সারা বাংলাদেশে প্রত্যেকটা জনপদে এদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।”
‘ইসি ঘেরাও করতে হবে’
গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, “নির্বাচন কমিশন দফায় দফায় আমাদের অফিস ভিজিট করেছে। আমাদের ৫৩টি জেলা কমিটি থাকলেও ২৮ জেলা কমিটির (অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় কার্যালয় থাকার শর্ত আছে ইসির) তথ্য কমিশনকে দিয়েছি, উপজেলায় ইসির রিকোয়ারমেন্ট ১০০, সেখানে আমরা দিয়েছি ১১১টি। অন্যান্য দলও একইভাবে কমিশনকে তাদের রিকোয়ারমেন্ট থেকে বেশি দিয়েছে। তার পরেও কেন আমাদেরকে নিবন্ধন দেওয়া হলো না কেন?
“‘আমরা ধারণা ও কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যতটুক জানতে পেরেছি যে, সরকারের কাছ থেকে নির্দেশনা ছিল যে- কাউকে নিবন্ধন দেওয়া যাবে না। শুধু ওই দুইটা দলকে … সুপারিশ গভর্মেন্টের বিভিন্ন এজেন্সি দিয়ে গেছে।”

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, “একটি পত্রিকার রেফারেন্সে বলছি, এই দলটির অফিসে লেখা আছে রাজনৈতিক আলাপ নিষিদ্ধ। তিনিও নিবন্ধন পেয়ে যান। তিনি (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি) নিবন্ধন পেয়েছে কীভাবে? গুগলে সার্চ দিয়ে দেখবেন ডকুমেন্ট পেয়ে যাবেন। কিছুদিন আগে পত্র-পত্রিকায় নিউজ এসেছে যে, ধর্মভিত্তিক দলকে কাছে টানতে চায় আওয়ামী লীগ…।
‘‘এমনি তো ইসলামবিদ্বেষী কিছু কর্মকাণ্ড আছে, আলেম-উলামাদের বিরুদ্ধে নানা নির্যাতন চালাচ্ছে- এটা গোছানোর জন্য আওয়ামী লীগ কিছু ইসলামিক দলকে পেট্রোনাইজ করে কাছে টানতে চায় বিশেষ করে নির্বাচন উপলক্ষে। যে কারণে নাম দিয়ে কিছু লোককে ভিড়ানোর জন্য একটা নিবন্ধিত দল তৈরি করা দরকার ছিল।”
নুর বলেন, “আরেকটা কারণ হচ্ছে- বিএনপির কাছাকাছি নাম। আপনাদের মনে আছে ‘আসল বিএনপি’ নাম দিয়ে কোথাকার কামরুল বস্তি থেকে লোক ট্রাকে করে নিয়ে বিএনপি অফিসে দখল করতে গিয়েছিল…। এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে।
“আগামী ২৬ জুলাই এই দুইটি দলের (প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত) গেজেট প্রকাশ করবে। সেজন্য আমার অনুরোধ থাকবে- প্রত্যেকটি অনিবন্ধিত দল নিজেদের ব্যানারে ২৬ জুলাইয়ের আগে এই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। সকলে মিলে একটা ঘেরাও কর্মসূচি আমাদের থাকা দরকার।”
‘ওদের অফিস নাই, ওরা এজেন্সির সৃষ্টি’
বিএনপির মিত্র দল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, “আমাদের প্রতি নির্বাচন কমিশন জুলুম করেছে। যে দু্ইটা দলকে নিবন্ধন দিয়েছে, তার মধ্যে একটি দলকে কেন দেওয়া হয়েছে- তা সকলে বলেছেন।
“তবে আরেক দলকে যে নিবন্ধন দিয়েছে সে সম্পর্কে বলব, একটি গোপন সংগঠনকে ইসি প্রমোট করেছে। এই বিএনএম… এই দলের সভাপতিকে- আমি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১৯৮৯ সাল থেকে আছি, আমি তাকে চিনি না। যাদেরকে নিবন্ধন দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে সাংবাদিকরা খোঁজ নেবেন।”

ইরান বলেন, “আমি আজকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই, উনারা (দুইটা দল নিবন্ধন পেয়েছে) যে ১০০টি উপজেলা অফিস দেখিয়েছেন, ২১ জেলায় অফিস দেখিয়েছেন- এর ঠিকানা পত্রিকায় প্রকাশ করুন। আমাদের নেতাকর্মীরা দেখতে চায়- তারা কোথায় অফিস করেছে ৬৮ হাজার গ্রামের ভেতরে। আমরা বলতে চাই, এই দুইটা সংগঠনের অবশ্যই কোনো অফিস নাই। এসব হচ্ছে সরকারের এজেন্সিদের কাজ, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাজ এবং ওই বিএনপিকে ভাঙা, বিএনপিকে নিয়ে যে একটা চরম ষড়যন্ত্র হচ্ছে- এই বিএনএম।”
বিএনপির এক সময়ের নেতা নাজমুল হুদার (প্রয়াত) দল ‘তৃণমূল বিএনপি’ নামে এ বছরের শুরুতে যে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লেবার পার্টির প্রধান।

বিএলডিপির চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আল আজাদ বলেন, “নিবন্ধনের এই আইন একটা তৈলাক্ত বাঁশ। আমি ২০০৮, ’১৪, ’১৮ এবং ’২৩- এই চার বার আবেদন করেছি নিবন্ধনের জন্য। বারবার এই বাঁশটা দিয়ে মনে হয় উঠে গেলাম… আবার শা করে নিচে নেমে এলাম। আর ওঠা যাচ্ছে না, ক্লান্তি।
‘‘এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে, একে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে।”
বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বাবুল সর্দার চাখারী বলেন, “এই নির্বাচন কমিশন ছাত্রলীগ, যুবলীগ নিয়ে আমাদের অফিস ভিজিট করতে যায়, এটা ভাবা যায়? আমরা এই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করব।
“এই যে বিএনএমকে নিবন্ধন দেওয়া হলো, এর সভাপতি ও সেক্রেটারি কে? কেউ বলতে পারবে? সাংবাদিক যদি কেউ বলতে পারে যে- ‘আমি চিনতে পারি’, তাহলে আজ থেকে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। এই বিএনএম, বিএনপিকে ভেঙে বিভক্ত করার জন্য সরকারের নীল নকশার অংশ হিসেবে এই দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।”

গণঅধিকারের দুই অংশের হইচই
সংগঠনের একটি অংশের সভাপতি নুরুল হক নূর সংবাদ সম্মেলনে এসে আরেক অংশের নেতা যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসানকে দেখে ক্ষুব্ধ হন। বক্তব্যে নুর বিষয়টি তুলে তার নেতৃত্বের অংশটি গণঅধিকার পরিষদ বলে দাবি করেন। পাশাপাশি দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়াকে অপসারণ সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন পড়ে শোনান নুর। বলেন, “এই অপসারণ বৈধ বলেছে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে।”
পরে যখন রেজা কিবরিয়ার অংশের নেতাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়, এই সময়ে এর প্রতিবাদ জানায় নুরসহ নেতাকর্মীরা। তারা সংবাদ সম্মেলন থেকে চলে যাওয়ার কথা বলেন। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ‘ভুয়া’ বলে গালমন্দ করতে থাকেন।
এসময়ে এবি পার্টির সদস্য সচিব মঞ্জু বলেন, “শান্ত হতে হবে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে সকলকে কথা বলতে দিতে হবে। আমি হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, এই সুন্দর অনুষ্ঠানকে আপনারা নষ্ট করবেন না।”

হইচইয়ের মধ্যে ফারুক হাসান বলেন, “আমরা বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের নিবন্ধন করার জন্য আমাদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার স্বাক্ষরে ইসিতে আবেদন করেছিলাম… এটি একটি দল।”
দুই পক্ষের কর্মীদের হইচইয়ের একপর্যায়ে তার বক্তব্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতা পার্টির চেয়ারম্যান সুকৃতি কুমার মন্ডল, ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি আশিক বিল্লাহও ছিলেন।
গোয়েন্দা সংস্থার কথায় চলে না ইসি: আলমগীর
দলগুলোর অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, “নির্বাচন কমিশন কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কথা চলে না। কোনো গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে কাজ করে না। ইসি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এখানে যারা (সিইসি ও নির্বাচন কশিনার) রয়েছে, তারা আইন-কানুন, নিয়ম মেনে (নিবন্ধন) দিয়েছেন।”

ইসি আলমগীরের ভাষ্য, যে দুটি দলকে নিবন্ধন দিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে, তারা আইন, বিধি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও মাঠ পযায়ের শর্ত সঠিকভাবে পূরণ করেছে।
“যারা আবেদন করেছে- তাদের জেলা, উপজেলা সংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা হয়েছে। তথ্য যাচাই সংক্রান্ত দুটি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন সঠিক হয়েছে এবং শর্তপুরণ করায় দুটি দল নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। বাকিরা শর্ত পূরণ করেনি, তাই নিবন্ধন পায়নি।
দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রিপোর্ট চাইওনি, নিইওনি। গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের কাছে রিপোর্ট দেওয়ার কথাও না, সেটাকে এন্টারটেইন করারও সুযোগ নেই।”
কারো ধারণার উপর ইসি কোনো দলের নিবন্ধন দেয় না উল্লেখ করে ইসি আলমগীর বলেন, “আপনার ধারণা অনুযায়ী নিবন্ধন দেওয়া হবে না, আইনবিধি অনুযায়ী হবে। শর্ত পুরণ করেছে কি না, সেটা দেখতে হবে। ইসি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান।”
ইসির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা ‘রাজনৈতিকভাবে মন্তব্য’ করা হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: