Published : 25 Jul 2026, 06:24 PM
চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা, জাগ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার প্রায় দুই লাখ টন পাট উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত হন। এবার পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার টন। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ২ দশমিক ২৪ টন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামান বলেন, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

দেশের মোট পাট উৎপাদনে প্রায় ৩০ শতাংশ হয় ফরিদপুরে; এখানকার পাট গুণে ও মানে বিখ্যাত বলে দাবি এই কৃষি কর্মকর্তার।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সেচের প্রয়োজন ছিল। সেইসঙ্গে সার, জ্বালানি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এ ছাড়া প্রতিবছর শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট চাষে লাভের পরিমাণও কমে যাচ্ছে।
সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকার পাটচাষি মোতালেব মুন্সি, হারুন মাতুব্বরসহ কয়েকজন বলেন, বর্তমানে তারা পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজ করছেন। তবে মৌসুম শেষে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে সময়মতো পাট ক্রয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিলে পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন কৃষক।
ফরিদপুর জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মানিক মজুমদারের ভাষ্য, উৎপাদন ভালো হলেও কৃষকের লাভ নিশ্চিত করতে ন্যায্যমূল্য, সহজ বাজারজাতকরণ এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এতে পাট উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে ফরিদপুরের ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে।