১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি ইসি: কাদের

কর্মসূচি বদলে সেদিন তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Dec 2023, 05:43 AM
Updated : 5 Dec 2023, 05:43 AM

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেইটে আওয়ামী লীগকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি নির্বাচন কমিশন।

অনুমতি না মেলায় কর্মসূচি বদলে সেদিন তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটি।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মানবাধিকার দিবসের কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার কথা বলেন।

কাদের বলেন, “আগামী ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস। এই মানবাধিকার দিবসে আমরা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে একটি বড় সমাবেশ করব, এরকম একটা কর্মসূচি আমাদের ছিল। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলাম। সে আবেদন তারা গ্রহণ করেননি। বাইরে সমাবেশের নামের শোডাউন হবে সে আশঙ্কা করছে।

"যে কারণে দশ তারিখে আমাদের মানবাধিকার দিবসের আনুষ্ঠানিকতা ভিতরেই পালন করব। বাহিরে যে সমাবেশ করার কথা সেটি করছি না। নির্বাচন বিধির বাইরে আমরা যেতে চাই না।"

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বলেছিল, মানকাধিকার দিবসে বায়তুল মোকাররমে তাদের সমাবেশ হবে বিএনপি–জামায়াতের ‘সন্ত্রাসী বাহিনীর’ দ্রুত বিচারের দাবিতে। অগ্নিসন্ত্রাসে হতাহতদের পরিবারের সদস্যরাও তাতে অংশ নেবেন।

সেই কর্মসূচিতে পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "১০ ডিসেম্বর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা হবে।"

নিখুঁত গণতন্ত্র কোথায়?

ওবায়দুল কাদের বলেন, "গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি আমাদের গণতন্ত্রের রাজপথের এক অকুতোভয় বীর। গণতন্ত্রই ছিল তার সারা জীবনের ব্রত। গণতন্ত্রের জন্য তিনি লড়াই করেছেন। আন্দোলন করেছেন। পাকিস্তানীদের দ্বারা বারবার নির্বাচিত হয়েছেন, জেলে গেছেন, নিগৃহীত হয়েছেন।

“গণতন্ত্র বলতে বলতেই বৈরুতে নির্জন হোটেল কক্ষে তার মৃত্যু হয়েছে। আজও রহস্য রয়ে গেছে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর স্বাভাবিক কি না। অনেকে মনে করেন, অস্বাভাবিক অবস্থায় বিদেশের এক হোটেলে নিঃসঙ্গ অবস্থায় তার জীবনাবসান হয়েছে।"

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করে আমরা বাঙালির স্বাধীকার সংগ্রাম করেছি। স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা পর্যন্ত সেটাও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যে পথ দেখিয়ে গেছেন, সেটাকে অনুসরণ করেই হয়েছে। বঙ্গবন্ধু নিজেও সোহরাওয়ার্দীর শিষ্য বলে দাবি করতেন।"

বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্র আছে, গণতন্ত্র থাকবে’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, “আমাদের দেশে নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রাণ। এই গণতন্ত্রের জন্যই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আজীবন সাধনা, আমরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। তার প্রদর্শিত পথে আমাদের গণতন্ত্রের সংগ্রাম আরো এগিয়ে নিয়ে যাব। গণতন্ত্রকে ত্রুটিমুক্ত করে পারফেক্ট ডেমোক্রেসি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা নিরলসভাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লড়াই চালিয়ে যাব। আজকের দিনে এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, "আমরা মনে করি গণতন্ত্রের জন্য এমন একটা স্বাধীন অবস্থা আমরা তৈরি করতে পেরেছি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায়। তার রাজনৈতিক যে অবস্থান, এ অবস্থান অবশ্যই তার আওতায় পড়ে। গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করার জন্য শেখ হাসিনার যে সংগ্রাম সে সংগ্রাম বৃথা যায়নি। গণতন্ত্র একেবারেই ত্রুটিমুক্ত, পারফেক্ট ডেমোক্রেসি পৃথিবীর কোথায় আছে আমাদের জানা নেই।

"২১ বছর তো এদেশে মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ ইলেকশন ডেসট্রয় করে দিয়েছে। গণতন্ত্র ছিল না। ২১ বছর ছিল স্বৈরতন্ত্র, ডিক্টেটরশিপ ও তাদের লিগেসি শাসন করেছিল। গণতন্ত্রের যে যাত্রা, এই যাত্রায় গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করার জন্য যিনি ছিলেন সবার অগ্রভাগে, নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দীর্ঘ সংগ্রামে স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে এসে। ৭৫ এর ছয় বছর পর এদেশেফিরে এসে তার প্রথম কাজই ছিল গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করা। সংগ্রাম তিনি করে গেছেন। সেই সংগ্রামের জন্য তিনি আপসহীন ভাবে লড়ে গেছেন।"

বিএনপির ভোট বর্জনের ঘোষণার সমালোচনা করে কাদের বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনেক বাধা বিপত্তির মধ্যেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই পথ মসৃণ নয়। এই পথ অনেক জটিল পথ। আমাদের দেশে আজকে সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গিবাদী শক্তি গণতন্ত্র সমর্থন করে না। আজকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে বয়কট করছে এবং প্রতিহত করার জন্য অবরোধ ডাকছে, হরতাল ডাকছে।

“এরা তো গণতান্ত্রিক শক্তি নয়। আজকের এই দিনে গণতন্ত্রের যে লড়াই শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রকে পরিপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে লড়াই আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরু হয়েছে, সে লড়াইকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। গণতন্ত্র পরিপূর্ণ হবে, ত্রুটিমুক্ত হবে। পরিপূর্ণতা পাবে, ম্যাচিউরিটি পাবে। সে লক্ষ্যে আমরা সংগ্রাম করে যাচ্ছি।"