একবারে ‘খাদে এসে গেছে’ দেশ: ফখরুল

ফখরুল বলেন, “একদিকে অর্থনৈতিক সংকট, আরেক দিকে রাজনৈতিক সংকট। যদি নির্বাচন ঠিক মত না হয়, নির্বাচনে যদি জনপ্রতিনিধি সঠিকভাবে নির্বাচিত না হয়, সে দেশ কীভাবে চলবে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2022, 10:48 AM
Updated : 22 Nov 2022, 10:48 AM

বাংলাদেশ ‘গভীর সংকটে পড়েছে’ দাবি করে এর পেছনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘দায়ী করেছেন’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “একেবারে খাদে এসে গেছে দেশ। একদিকে অর্থনৈতিক সংকট, আরেক দিকে রাজনৈতিক সংকট। এটা একটা ক্রিটিক্যাল মোমেন্ট। যদি নির্বাচন ঠিক মত না হয়, নির্বাচনে যদি জনপ্রতিনিধি সঠিকভাবে নির্বাচিত না হয়, সে দেশ কীভাবে চলবে।

“আমরা এখনো মনে করি, এই সমস্ত সন্ত্রাস, অত্যাচার-নির্যাতন বাদ দিয়ে তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা দেশে একটা সত্যিকার অর্থে একটা অন্তবর্তীকালীন কেয়ারটেকার সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। অন্যথায় কোনোমতেই সমস্যার সমাধান করার সম্ভাবনা আমরা দেখি না।”

বুধবার ঢাকার আসাদগেইটে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফখরুল। চারদিন আগে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের প্রচারে ‘হামলায়’ আহত টুকুর স্ত্রী, বিএনপির সাবেক সাংসদ রুমনা মাহমুদকে দেখতে যান তিনি।

প্রতিবেশী দেশগুলোর নির্বাচন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে সাংবাদিকদের ফখরুল বলেন, “আপনারা পাশের দেশগুলোর দিকে দেখেন। ভারতের কী কম সমস্যা আছে? ভারতে নির্বাচন হচ্ছে, সকলে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। নেপালে একেবারে বিপরীতমুখী রাজনৈতিক দলগুলো- সোশলিস্ট, রেভল্যুশনারি, লিবারেল ডেমোক্র্যাট… ইলেকশন করছে এবং সবাই নির্বাচনে যাচ্ছে। সেখানে নির্বাচনে যাওয়ার পরিবেশ আছে।

“পাকিস্তানের মত দেশ, তারা পর্যন্ত নির্বাচনে যাচ্ছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের (রাজনৈতিক দল) বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে। দুর্ভাগ্যজনক আমরা সেটা করতে পারি নাই। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ এই সংকট সৃষ্টি করেছে।”

ঢাকায় দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে এই বিএনপি নেতা বলেন, “চারদিকে তাকালে চোর, চুরি, চারদিকে তাকালে গুণ্ডামি, চারদিকে তাকালে মারামারি…। তারা এত কিছু করছেন, একজন দিনমজুরকে গুলি করে তার নাড়িভুড়ি বের করে দিতে পারছেন। আর আপনাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) সামনে দিয়ে জঙ্গি উধাও হয়ে যাচ্ছে। বুঝতেই পারেন তাদের (সরকার) গভর্নেন্স। কোন জায়গায় তারা গভর্নেন্সকে নিয়ে এসেছে।”

‘সর্বত্র ত্রাস’

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলস্টেশন বাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সেখানে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি রুমনা মাহমুদকে বহনকারী মাইক্রোবাস ভাঙচুর ও আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সেই প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনোমতেই সন্ত্রাস ছাড়া টিকতে পারে না, প্রতিপক্ষকে তারা সহ্য করতে পারে না এবং সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে তারা নির্মূল করতে চায়। ত্রাস না করলে তারা শাসন করতে পারে না- এটা হচ্ছে তাদের পুরনো অভ্যাস। তারা সারাদেশে ত্রাস সৃষ্টি করছে।”

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় বসার পর থেকেই সিরাজগঞ্জে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ তৈরি করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

“এর মূল টার্গেটটা হচ্ছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তার স্ত্রী। যেহেতু ২০০৮ সাল টুকু সাহেব নির্বাচন করতে পারেননি, নির্বাচন করেছেন ভাবী। নির্বাচনে জিতে এসছে… এই যে প্রতিরোধ, প্রতিরোধ, প্রতিহিংসার ব্যাপার আছে। এটা তারা (আওয়ামী লীগ) কনটিনিউ করে গেছে।”

রুমনা মাহমুদের স্বামী বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন ও সদস্য শায়রুল কবির খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক