সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক, সরকারের কথা মেনে কারখানা খোলা রাখতে চায় বিজিএমইএ
কারখানা খোলা রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তা জোরদারে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলেছেন বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজওয়ান সেলিম।
তৈরি পোশাক খাতে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে কারখানা উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানসহ কয়েকজন পরিচালক তাতে অংশ নেন।
রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ মতবিনিময় সভা শেষে বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজওয়ান সেলিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘সরকারের নির্দেশনা আমরা সদস্য কারখানাগুলোকে জানিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারখানা খোলা রাখতে।
“আমরা একটা আনঅফিসিয়াল মিটিং করেছি সম্পাদকদের সঙ্গে। তাদের কথাও শুনেছি, কিছু মতামত পেয়েছি। আমাদের অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে।’’
সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তা জোরদারে আশ্বস্ত করা হয়েছে জানিয়ে রেজওয়ান সেলিম বলেন, “শিগগির পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে বিজিএমইএ। হয়ত সেটা কালকেই (বুধবার) হতে পারে।’’
বুধবার সকালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সভায় উপস্থিত থাকা বিজিএমইএর আরেক সদস্য।
তিন বছর পার হতে চলার দুই মাস অবশিষ্ঠ থাকতেও নতুন মজুরি বোর্ড গঠন না হওয়ায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে ঢাকার গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, মিরপুরে আন্দোলন করছেন পোশাক কর্মীরা।
মঙ্গলবার সেই আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে নারায়ণগঞ্জেও। আন্দোলনের মুখে গত ১ নভেম্বর পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠানো নির্ধারণ করতে মজুরি বোর্ডর সদস্য বাড়ায় সরকার।
কিন্তু তিনদিন পার হলেও মজুরি বোর্ড এখনো কোনও সভার তারিখ ঘোষণা করেনি।
এদিকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা চাই সংঘাতমুক্ত পোশাক খাত। সম্পদকদের কাছ থেকে লেখনির মাধ্যমে সেই সহযোগিতা চেয়েছি। সরকার সহযোগিতা করছে, কারখানা খোলা রাখতে। আমরা সদস্যদের সেটা বলেছি, তা সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরা হয়।”
সভায় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
মাহমুদ হাসান বলেন, “বৃহস্পতিবারের মধ্যে বৈঠক ডেকে মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে সভায়।”
চলতি মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত মজুরি ঘোষণা এবং আগামী মাস থেকে বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আন্দোলনের নামে যেন কোনও সংঘাত না হয়, সবার কাছ থেকে সেই সহযোগিতা চাই।”
এদিকে মঙ্গলবার বিজিএমইএ উত্তরার ভবনে পোশাক খাতের কয়েকটি বড় গ্রুপের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মাহমুদ হাসান খান। সভায় অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রুবানা হক, আনোয়র উল আলম চৌধুরী পারভেজ ও হা–মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে আজাদ।
