বিপর্যয় সামাল দিয়ে সেঞ্চুরি মিঠুন ও সোহানের
প্রায় দুই বছর পর শতকের দেখা পেলেন মোহাম্মদ মিঠুন, তিন অঙ্ক ছুঁয়ে আরও বড় কিছুর সম্ভাবনা জাগালেন নুরুল হাসান সোহান।
লাঞ্চের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে প্রবল চাপে ছিল খুলনা। সেই বিপর্যয়েই ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন মোহাম্মদ মিঠুন ও নুরুল হাসান সোহান। চাপ সামলে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান গড়লেন বড় জুটি। দুজনই নিজেকে রাঙালেন শতরানে।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম দিন সেঞ্চুরি করে আউট হয়েছেন মিঠুন। তবে আরও বড় কিছুর সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন সোহান।
দিনের অন্য ম্যাচে তিন অঙ্কের আশা জাগিয়েছেন তরুণ স্পিনিং অলরাউন্ডার এসএম মেহেরব হাসান। বল হাতে ৪ উইকেট পেয়েছেন হাসান মুরাদ ও ইয়াসিন আরাফাত।
মিঠুন ১১৯, সোহান ১০৪*
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৩ রানে ৪ উইকেট হারায় খুলনা। পরে পঞ্চম উইকেটে ১৬৭ রানের জুটি গড়েন মিঠুন ও সোহান। তাদের ব্যাটে শুরুর চাপ সামলে দিন শেষে খুলনার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৮০ রান।
চার নম্বরে নেমে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১২ চার ও ৫ ছক্কায় ১৬৯ বলে ১১৯ রানের ইনিংস খেলেন মিঠুন। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি তার ১৭তম সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর আবার তিন অঙ্কের দেখা পেলেন ৩৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
মিঠুনের সঙ্গে বড় জুটি গড়া সোহান দিনের শেষভাগে পৌঁছে যান প্রথম শ্রেণিতে ত্রয়োদশ সেঞ্চুরিতে। শেষ পর্যন্ত ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১০৪ রানে অপরাজিত অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।
খুলনার ব্যাটিং নাড়িয়ে ৪০ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন ইয়াসিন আরাফাত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
খুলনা ১ম ইনিংস: ৮২ ওভারে ২৮০/৮ (এনামুল ৩, আজিজুল ১, সৌম্য ১৭, মিঠুন ১১৯, আফিফ ১৭, সোহান ১০৪*, জিয়াউর ২, পারভেজ ০, মেহেদি ২, সফর ০*; গালিব ১০-২-৫৮-১, ইয়াসিন ১৬-৩-৪০-৪, রিজান ৮-১-২৩-১, রকিবুল ৩২-৭-৮৮-২, শুভাগত ৯-০-৩১-০, মোসাদ্দেক ৭-০-৩১-০)
মেহেরবের ব্যাটে রাজশাহীর লড়াই
ভেজা আউটফিল্ডের কারণে নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পর শুরু হয় রাজশাহী-রংপুর ম্যাচ। বগুড়ার মাঠে অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে রাজশাহীকে একাই টেনে নিচ্ছেন তরুণ অলরাউন্ডার এসএম মেহেরব হাসান।
হংকং সিক্সেস খেলতে যাওয়া হাবিবুর রহমানের জায়গায় সুযোগ পাওয়া ইমন আলি রানের খাতা খুলতে পারেননি। অধিনায়ক প্রিতম হাসানও ফেরেন খালি হাতে। সাব্বির হোসেন, নাঈম আহমেদ, শাকির হোসেনরাও হতাশ করলে ৪২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে রাজশাহী।
সানজামুল ইসলামকে নিয়ে কিছুক্ষণ চেষ্টা করেন মেহেরব। দলের ৬৩ রানে ফিরে যান সানজামুলও। এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি মেহেরব ও নিহাদ উজ জামান। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তাদের সংগ্রহ ৯৩ রান।
তিন অঙ্কের আশা জাগিয়ে ১৩ চারে ১৩২ বলে ৮২ রানে অপরাজিত মেহেরব। নিহাদ অপরাজিত ২৮ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ৫৯ ওভারে ১৫৫/৬ (ইমন ০, সাব্বির ৫, নাঈম ২০, প্রিতম ০, শাকির ৩, মেহেরব ৮২*, সানজামুল ১১, নিহাদ উজ জামান ২৮*; মেহেদি ১১-১-৩৭-৩, শাহরিয়া ১১-১-৪১-১, মামুন ১০-২-২৬-০, আলাউদ্দিন ৭-২-১১-১, ইকবাল ৪-০-৮-০, রিশাদ ১১-৫-১৯-০, হাশিম ৫-২-৮-০)
মুরাদের ৪ উইকেট
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে পঞ্চাশতম ম্যাচ খেলতে নেমে শুরুটা দারুণ করলেন হাসান মুরাদ। সিলেটের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিলেন চট্টগ্রামের বাঁহাতি স্পিনার। তার সঙ্গে অফ স্পিনার আশরাফুল হাসান ৩ উইকেট নিলে ২১৮ রানে গুটিয়ে যায় সিলেট।
আগের রাউন্ডে বড় ইনিংস খেলা জাকির হাসান ও অমিত হাসান হতাশ করেন এবার। মুবিন আহমেদ দিশান ভালো শুরু করেও ফিরে যান অল্পে।
ছয় নম্বরে নেমে কিছুক্ষণ দলকে এগিয়ে নেন আশরাফুল হাসান। আগের চার রাউন্ডে দুটি সেঞ্চুরি করা তরুণ ব্যাটসম্যান এবার খেলেন ৫১ রানের ইনিংস।
শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণ করেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও ইকবাল হোসেন। দশম উইকেটে মাত্র ২৩ বলে ৪১ রান যোগ করেন দুজন। খালেদ ২৪ বলে ২৮ ও ইকবাল ৮ বলে ১৩ রান করে দলকে দুইশ পার করান।
দিনের শেষ ঘণ্টায় ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু করেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান। কিন্তু শেষ ওভারে অনিয়মিত স্পিনার আসাদুল্লাহ আল গালিবের বলে আউট হয়ে যান ২৮ রান করা সাদিকুর। ৩৫ রানে অপরাজিত জয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
সিলেট ১ম ইনিংস: ৭২.৩ ওভারে ২১৮ (জাকির ২, মুবিন ২৯, সৈকত ০, অমিত ৩৪, গালিব ০, আশরাফুল ৫১, নাসুম ১৩, তোফায়েল ২৯, শাহানুর ১৬, খালেদ ২৮, ইকবাল ১৩*; সঞ্জিত ৯-১-৪৮-২, রুবেল ৬.৩-১-১৮-১, পরান ২-০-৯-০, আশরাফুল ২১-৭-৩১-৩, হাসনাত ১১-১-৩৬-০, মুরাদ ২৩-২-৭৪-৪)
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ১৫ ওভারে ৬৪/১ (জয় ৩৫*, সাদিকুর ২৮, আশরাফুল ০*; খালেদ ৪-০-২১-০, ইকবাল ২-০-১৬-০, নাসুম ৫-২-৯-০, তোফায়েল ২-০-৭-০, শাহানুর ২-০-৭-০, গালিব ১-০-৪-১)
ঢাকা-বরিশাল
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ভেজা আউটফিল্ডের কারণে প্রথম দিন টস করা সম্ভব হয়নি।
