উপজেলা, সিটি, পৌর ভোটে নৌকা দেবে না আওয়ামী লীগ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Jan 2024, 04:43 PM
Updated : 22 Jan 2024, 04:43 PM

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর যেসব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও  উপজেলা পরিষদের ভোট হতে যাচ্ছে, তাতে দলীয় প্রতীক নৌকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সোমবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের জরুরি কার্যনির্বাহী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক থেকে বের হয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “উপজেলা নির্বাচনে আমরা দলের প্রতীকের প্রার্থিতা দেব কি না, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওয়ার্কিং কমিটির প্রায় সর্বসম্মত অভিমত যে, এবারকার উপজেলা নির্বাচনে আমাদের দলীয় প্রতীক নৌকা ব্যবহার না করা। নৌকা না দেওয়ার জন্য ওয়ার্কিং কমিটির সভায় সবাই অভিমত পেশ করছেন।

Also Read: উপজেলা ভোটে কাউকে নৌকা না দেওয়ার ভাবনা

“আমাদের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সবার অভিমতের সাথে আমি ভিন্নমত প্রকাশ করি না, যেহেতু সবাই এখানে একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন’। আগামী স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড (সভায়) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। আপাতত এটা ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত। ওয়ার্কিং কমিটি যেটা সিদ্ধান্ত নেয়, মনোনয়ন বোর্ড সেই সিদ্ধান্ত বহাল করে। মনোনয়ন বোর্ডের আনুষ্ঠানিকতার আগে বিষয়টা নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমনকি পৌরসভা নির্বাচনেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবে না আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে সকল নির্বাচনে অংশ নেবে, তবে স্থানীয় সরকারে সরাসরি নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে না।"

তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।

২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন প্রণয়নের পর থেকে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে আসছে রাজনৈতিক দলগুলো। এ সময়ের পরের নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগও নৌকা প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে।

তবে বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সামনের উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ভোটে দলীয় প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল ক্ষমতাসীন দলটি।

আগামী ৯ মার্চ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন হবে । একই দিন কয়েকটি পৌরসভাতেও ভোট হবে।

কাছাকাছি সময়ে প্রথম ধাপে শখানেক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান সোমবার বলেন, “উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আমরা এখনও পর্যালোচনা করছি এবং দেখছি। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে এবং ১২ মার্চে শেষ হবে। আবার ১০ বা ১১ মার্চ রোজা শুরু হবে। এসব বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে।”

প্রথম ধাপে শখানেক উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ ৩০ এপ্রিলের মধ্যে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “বাকিগুলো কয়েকটা ধাপে মে মাসে করা হবে। কারণ জুন মাসে আবার এইচএসসি পরীক্ষা। এজন্য আমরা এই সময়টাকে কাজে লাগাতে চাই।

“উপজেলার যে তালিকাগুলো আমরা পেয়েছি, সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। ঈদের আগে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হওয়ার সম্ভবনা নেই। তবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই কিছু সংখ্যাক নির্বাচন করব। প্রায় ১০০ উপজেলার নির্বাচনের জন্য এ সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত হতে পারে।"

নয় বছর পর দলীয় প্রতীক ছাড়া এসব ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাষ্য, তৃণমূলের রাজনীতিতে বিভাজন ঠেকাতে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় দলীয় প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সবশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান পদ দুটি উন্মুক্ত রেখেছিল আওয়ামী লীগ।

২০১৫ সালের পর থেকে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিপাকেও পড়তে হয়েছে। অতীতে একজনকে প্রতীক দিলে আরেকজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন।

তাতে দলীয় শৃঙ্খলা যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনই তৃণমূলে বিভেদ-বিভাজনও সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সংসদ সদস্য, জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বিপাকে পড়তে হয় প্রার্থী বাছাই নিয়ে। একেক নেতা একেক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় কোথাও কোথাও পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়িয়েছে।