Published : 31 Dec 2025, 04:18 PM
জাতীয় সংসদের সামনে জনসমুদ্রের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকে সেই জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। বেলা বাড়লে সেই জমায়েত রূপ নেয় জনসমুদ্রে।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভেনিউ ছাড়িয়ে আশপাশের সব সড়ক, অলিগলি থেকে বহু মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
এদিকে বিজয় সরণি, অন্যদিকে ফার্মগেইট প্রান্তে নামা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং ধরে ওপরের দিকে জায়গা করে নেয় মানুষ।
এছাড়া ফার্মগেইটের ফুটওভার ব্রিজ, মেট্রোরেলের সিড়ি ওবং স্টেশনের দোতলাতেও ভিড় দেখা গেছে। ওই এলাকায় যে যেভাবে পেরেছেন পশ্চিমমুখী হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে কেবল রাজধানী থেকে নয়, তীব্র শীতের মধ্যে অন্যান্য জেলা থেকেও অনেক মানুষ এদিন ভোরবেলা ঢাকায় প্রবেশ করেছেন। অনেকে আবার এসেছেন আগের রাতেও।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার মোহাম্মদ শাকিল খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর প্রথমে শোনেন মঙ্গলবার বেলা ১০টার দিকে। প্রথমে গুজব মনে করায় পরে টেলিভিশন থেকে খবরটি যাচাই করে নেন।
সারাদিন মনখারাপ করে থেকে সন্ধ্যায় বাসে চেপে রাতে ঢাকায় আসেন শাকিল ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “রাতে আত্মীয়র বাসায় ছিলাম। ভোরে যাই হাসপাতালের সামনে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স বাহির হইলে তার পর ফার্মগেট আসলাম। জানাজায় যাওয়ার জন্য।"
কোনোদিন রাজনীতি না করা ৫০ বছর বয়সী শাকিল বলেন, “খালেদা জিয়ার দেশ প্রেম আছে। দেশ ছেড়ে কোথাও যাননি তিনি। এটাই আমার কাছে শ্রদ্ধার জন্ম দিছে। তাই তার জানাযায় আসলাম, না আসলে জীবনভর কষ্ট পাইতাম। তার মত নেতা লাগবে আমাদের।"
শাকিলের মত জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন মানিকগঞ্জের রিফাত উদ্দিন।
সকালের বাসে ঢাকায় নেমে বেলা ১১টার সময় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আসেন তিনি।

রিফাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমার মা খালেদা জিয়ার ভক্ত। মা পাঠাইছে জানাজায়।"
বুধবার বেলা ৩টা ২ মিনিটে জাতীয় সংসদের সামনে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব আবদুল মালেক। আর সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
এর আগে পরিবারের তরফে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান প্রয়াতের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
তিনি বলেন, “আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। আমি আজকে এখানে উপস্থিত সকল ভাইয়েরা এবং বোনেরা-যারা উপস্থিত আছেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় যদি আপনাদের কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।
“একই সাথে উনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় উনার কোনো ব্যবহারে, উনার কোনো কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা যাতে উনাকে বেহেশত দান করেন।”
মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া।
তার মৃত্যুতে দেশে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে, বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।