Published : 13 Jan 2026, 03:42 PM
জাতীয় পার্টি, ১৪ দল ও এনডিএফ জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে জুলাই ঐক্য।
সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেন।
জুলাই ঐক্যের সংগঠক প্লাবন তারেক, ইসরাফিল ফরাজী, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ, মুন্সি বুরহান মাহমুদ ও ওয়ালীওল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে চৌদ্দশর বেশি ছাত্রজনতাকে ‘নির্মূলের উদ্দেশ্যে গণহত্যা’ চালিয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।
“৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট ২০২৪) বাংলাদেশ যে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছিল তার আকাঙ্খা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ। গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনও বিচারের জন্য রাস্তায়।
“কিন্তু আমরা দেখছি, এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী, ডামি প্রার্থী ও জাতীয় পার্টিসহ এনডিএফ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।”

জুলাই ঐক্য বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ২৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জি এম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)।
“এই জি এম কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ কায়েমে সহযোগিতা করা হয়। গত ১৬ বছর জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগের সহযোগীরা বাংলাদেশে যত গুম, খুন, গণহত্যা ঘটিয়েছে, প্রকাশ্যে তার পক্ষে সহযোগিতা করেছে ১৪ দল।
“ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশ বিরোধী সব ধরনের কাজে লিপ্ত ছিল ১৪ দল। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণকারী জোট জুলাই ঐক্যর দাবি, অবিলম্বে গণহত্যাকারীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে।"
স্মারকলিপিতে বলা হয়, “নির্বাচনের নিরাপত্তায় বডি-ওয়র্ন ক্যামেরা না থাকলে নির্বাচনের দিন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

“তফসিল ঘোষণার পর একের পর এক লাশ রাস্তায় পড়ছে। শরীফ ওসমান হাদীর মত প্রার্থীকে খুন করা হয়েছে। খুনিকে গ্রেপ্তারে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার দৃশ্যমান কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র (দেশি অস্ত্রসহ) উদ্ধারে নির্বাচন কমিশনকে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে জুলাই ঐক্যের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনে এদিন কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে ‘জাতীয় পার্টির নির্বাচন মানি না, মানব না’ বলে স্লোগান দেন। ইসলামি ফাউন্ডেশন সামনে তাদের আটকে দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
এরপর সংগঠনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল কমিশন ভবনে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।