Published : 14 Mar 2026, 01:51 PM
আগামীকালকের মধ্যে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না করলে রাজপথে নামার হুমকি দিয়েছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সরকারের জন্য আগামী দিনটি শেষ দিন সিদ্ধান্ত জানানোর।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। সেদিন জামায়াত জোটের নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নেই তুলে ধরে বিএনপির নির্বাচিতরা এ শপথ থেকে বিরত থাকেন।
বৃহস্পতিবার নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। সে দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলী গঠন, সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিসহ কয়েকটি কমিটি গঠন ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর অধিবেশ মুলতবি করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
রোববার আবার মুলতবি অধিবেশন বসছে। আর আগে বিরোধী জোটের তরফে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি উঠল।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আযাদ বলেন, “সরকার যদি আগামীকালকের মধ্যে সংবিধান পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না করে, যদি আগামীকালের মধ্যে অধিবেশন ডাকার উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”
তিনি বলেন, শিগগিরিই শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জামায়াত জোটের সমন্বয়ক সম্প্রতি সরকারি নিয়োগে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ঈদের আগে আর পরে নিয়ে তো একটা ইতিহাস আছে। আজকে এদিকে যেতে চাই না। দিনক্ষণ বলছি না, সামনে ঈদ, এটা তো বাস্তব।
“আমাদের অনেক নেতা ওমরায় গেছেন। ঈদের আগে বসার সুযোগ হচ্ছে না। মার্চের ২৮ তারিখ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠক হওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।”
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে এই গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি করে আসছে জামায়াত।
দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা, সংলাপ ও তর্কবিতর্কের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হয়, যা স্বাক্ষর হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়।
এরপর গতবছর ১৩ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের সময় দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়।
ওই আদেশে বলা হয়, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে এই আদেশ জারির পর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ীদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। সেজন্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আলাদাভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন।
বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় জামায়াত জোটের তরফে অভিযোগ করা হচ্ছে, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না।
গেল ২ মার্চ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, “আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এটা এখনও ধারণ করা হয়নি।
“গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে এবং কোনো এরকম ফর্ম—এটা সংবিধানে নেই।”
তিনি বলেন, "সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে যে সমস্ত আলাপ আলোচনা মাঠে ময়দানে হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় সেমিনারে, বা... সেটি একটি রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে তারা বলতে পারে। কথা বলার অধিকার আছে, তারা দাবি তুলতে পারে। কিন্তু অসাংবিধানিক কোনো কিছু আমরা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে পারি না।"
তিনি বলেন, “গণভোটের রায় অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদ যদি গঠন করতে হয়, সেটি জাতীয় সংসদে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে করতে হবে।”
শনিবার জামায়াত জোটের সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপিকে উদার হওয়ার পরামর্শ দেন জোটের সমন্বয়ক আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা নেতা রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ।