Published : 01 Mar 2026, 08:53 PM
‘হিংসা বিদ্বেষ প্রতিহিংসার রাজনীতির’ অবসানের উদ্যোগ নিয়ে সকল দলকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
রোববার বিকালে ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার্স (কাকরাইল) মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
জিএম কাদের বলেন, “রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার দিকে এ সরকারকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। সকল দলকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। দেশকে বিভাজন না করে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।
“আমরা আশাবাদী, বর্তমান সরকার সস্তা ও অবাস্তব দেশপ্রেমের নামে দেশে হিংসা বিদ্বেষ প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানে উদ্যোগ নেবেন। সকলের মাঝে আস্থা ও নিরাপত্তার পরিবশে সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। দেশ তাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হবে। সম্মিলিতভাবে, আমরা সবাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।”
চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গেছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। আওয়ামী লীগের সময় প্রধান বিরোধ দলের ভূমিকায় থাকা জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি ছিল কয়েকটি দলের।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর বেশ বেকায়দাতেই ছিল জিএম কাদেরের দল। তাদের স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো আলোচনায় তাদের ডাকা হয়নি। এমনকি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা করে আগুনও দেওয়া হয়েছে।
সেসব পেরিয়ে জাতীয় পার্টি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও দলের ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোনো আসনে জয়ের দেখা পায়নি।
নির্বাচনে কোনো আসন না পেলেও জাতীয় পার্টি ‘বিচলিত নয় বরং খুশি হয়েছে’ দাবি করে দলের চেয়ারম্যান বলেন, “২০২৬ সাল হচ্ছে জাতীয় পার্টির পুর্নগঠনের বছর। তৃনমূল পর্যায়ে কর্মী, সংগঠক ও সমর্থকদের সংগঠিত করে জাতীয় পার্টির ছায়তলে নিয়ে আসাটা হচ্ছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

অন্তবর্তী সরকার ‘ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করে দেশকে রসাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিল’ বলে অভিযোগ করেন জি এম কাদের।
জিএম কাদের বলেন, “এই সময়ে নির্বাচন না হলে অথবা এই ধরনের ফলাফল না হলে ওই সরকার দেশে আকঁড়ে থাকত আর তাতে করে দেশে দুভিক্ষ ও গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা ছিল। এই জন্য আমরা মনে করি দেশে একটা নির্বাচিত সরকার দরকার ছিল। এই কারণেই আমরা বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছি।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কোনো ফলাফল বিপর্যয় ঘটেনি বলে মনে করেন পার্টির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে মেটিকুলাসল ডিজাইনে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আসনে আমাদের অত্যন্ত হাস্যকর ভোটের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। আমাদের কিছু জনপ্রিয় প্রার্থীর কোনো কোনো আসনে ভোট শূন্য দেখানো হয়েছে। তারা পি আর পদ্ধতি মাথায় রেখে পার্টির ভোটের সংখ্যা শতকরা এক ভাগের নিচে রেখেছে।
“এবারের নির্বাচনে শুধুমাত্র জাতীয় পার্টি বাদে সকল দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল। শুধুমাত্র জাতীয় পার্টিই একক দল হিসাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। তাই যুক্তিসঙ্গতভাবে বলা যায়, ‘না’ ভোটের পক্ষের অধিকাংশ ভোটই জাতীয় পার্টির তথা লাঙ্গলের।”
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “১৯৯১ সাল থেকে ক্ষমতাসীন দলগুলো নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে জাতীয় পার্টিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করে আসছে। শুধু দল নয়, আমাদের প্রতীক নিয়েও বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু জণগণের সমর্থনে সেটা তারা অতীতেও পারে নাই, এখনো পারবে না ইনশাল্লাহ। আমরা এবার কমবেশি ২০০ আসনে লাঙ্গল প্রতীক জনগণের সামনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।”
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “চরম প্রতিকূল অবস্থার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টি রাজপথের বিরোধী দল হিসাবে জনবান্ধব ভূমিকা পালন করবে। দেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি অম্লান ছিল, আছে এবং থাকবে। নব নির্বাচিত সরকার কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ অর্থ ব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত।
“সামনে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”
পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ফখরুল ইমাম, শেরিফা কাদের, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর শিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, এম এ তাহের, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ সেলিম, আহাদ ইউ চৌধুরী, উপদেষ্টা শফিকুল ইসলাম মধু, খলিলুর রহমান খলিলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।