Published : 16 Jan 2026, 01:48 AM
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ অপেক্ষায় থাকলেও সেদিকে হাত না বাড়িয়ে আলাদা জোট গঠনের আভাস দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
দলটির একাধিক নেতা বলেছেন, জামায়াতের জোটে তাদের ফেরার সম্ভাবনা ‘নেতিবাচক’; আবার বিএনপির সঙ্গে যাওয়ার ‘সম্ভাবনাও’ নেই। সেক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে নতুন জোট গড়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে তাদের। এ চিন্তাভাবনা জানাতে শুক্রবার সম্মেলন ডেকেছে দলটি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে আপিল নিষ্পতির ধাপে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২০ জানুয়ারি প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে যে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ গড়ে উঠেছে, তার সূচনা ঘটে ধর্মভিত্তিক আট দলের যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে শুরু হয়েছিল সেই যুগপৎ আন্দোলন।
শুরুতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ছিল এই মোর্চায়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে এই মোর্চাকে নির্বাচনি জোটে রূপ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হওয়ার আগের দিন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এলডিপি এবং তার পরদিন এবি পার্টি এই জোটে যোগ দেয়।
জোটে দলের সঙ্গে বাড়লেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের মতপার্থক্যের খবর সংবাদমাধ্যমে আসতে শুরু করে।
সেই মতপার্থক্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দূর হওয়ার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। বরং ইসলামী আন্দোলনকে বাদ রেখে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে এসে আসন ভাগাভাগির হিসাব তুলে ধরেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
তাতে জামায়াতের ভাগে ১৭৯টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি ) ৭টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির ভাগে আসন পড়েছে ২টি।
জোটের অন্যান্য শরিক দল— ইসলামী আন্দোলন, জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য আসন চূড়ান্ত করা হয়নি।

জামায়াতে ইসলামী ‘আশা’ করছে, ইসলামী আন্দোলন শেষমেশ তাদের জোটেই যোগ দেবে এবং সেই ‘আশা’ থেকে ৪৭টি আসনের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তাহের বলেন, “বাকি আসনগুলো আমাদের আরো যারা আছে, আমরা আশা করি, ঐক্যমতের ভিত্তিতে উনারা (ইসলামী আন্দোলন) আমাদের সঙ্গে থাকবেন। তখন আমরা ওনাদের আসনগুলো যেগুলো বাকি আছে, সেসব বিষয়ে আপনাদেরকে জানাব।”
তবে জামায়াত যখন সংবাদ সম্মেলন করে আসন ভাগাভাগির হিসাব তুলে ধরছিল, তখন ইসলামী আন্দোলনের তরফে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আসে।
তাতে বলা হয়, শুক্রবার বিকাল ৩টায় পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনি জোটের ভাবনা সম্পর্কে জানানো হবে।
সেক্ষেত্রে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে ফেরার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ফেরার সম্ভাবনা নেগেটিভ।"
সেক্ষেত্রে নতুন কোনো জোট গঠন করতে যাচ্ছেন কিনা, বা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, সেই প্রশ্ন করা হয় ইফতেখার তারিককে।
জবাবে তিনি বলেন, "জোট গঠনের বিষয়টা কাল সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে। আর বিএনপির সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।"
তবে দলটির আরেক নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আরও কয়েকটি ইসলামি দল আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চাচ্ছে, তাদের নিয়ে কিছু একটা হতে পারে।"
আরও পড়ুন
আসন ভাগাভাগি: জামায়াত কত নিল, বাকিরা কত পেল?
জামায়াত জোটের সংবাদ সম্মেলনেও আসেনি ইসলামী আন্দোলন
১১ দলে আসন ভাগাভাগি: জামায়াতকে নিয়ে ‘অবিশ্বাস’, যা বলছে ইসলামী আন্দোলন