‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার, এত কথা কন কেন?’

“গণতন্ত্র নিয়ে সবক দেয়ার অধিকার ওই সাংবিধানিক পদে থেকে আপনাকে কেউ দেয় নাই। আশা করি বাংলা কথাটা বুঝতে আপনার কষ্ট হবে না।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2022, 04:05 PM
Updated : 27 July 2022, 04:05 PM

‘কে নির্বাচনে আসবে, না আসবে’ তা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিউল বারী বাবুর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে নিয়ে স্মরণসভায় এনিয়ে কথা বলেন তিনি।

সিইসিকে উদ্দেশ করে গয়েশ্বর বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার (কাজী হাবিবুল আউয়াল), এত কথা কন কেন? এত কাজ তো জাতি আপনাকে দেয় নাই। কে নির্বাচনে আসবে, না আসবে তাতে কিছু আসে-যায় না। হু আর ইউ? তুমি কে এই কথা বলার?”

রাজনৈতিক সঙ্কটের মীমাংসা রাজনৈতিকভাবেই হবে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, “সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সরকার চিন্তা করবে, কীভাবে আজকে জনগণের সাথে সে মীমাংসা করবে? কীভাবে জনগণের ভোটের অধিকার ফেরত দেবে সেইটা। এই কাজ ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ নির্বাচন কমিশনের না।

“আমি আশা করব, আর কথা নয়, নো মোর টক।”

সিইসি বেশি কথা বলছেন মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, “ইদানিংকালে এই যে নির্বাচন কমিশন নামক একটা ঠাট্টা-মস্করার জায়গা বসছে। ইতিমধ্যে সে (সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল) নুরুল হুদাকে (সাবেক সিইসি কে এম নুরুল হুদা) হার মানাইয়া দিছে। সকালে এক কথা, বিকালে এক কথা।

“আগামী নির্বাচন এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে হবে- কী আহ্লাদে আটখানা। কি করে ভাবলেন? শেখ হাসিনা যেদিন থাকবে না তখন কী আপনাদেরকেও আমাদের তাড়াতে হবে? সুতরাং যে ক‘দিন আছেন বেতন-ভাতা খান, চুপচাপ বসে থাকেন। নির্বাচন নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে, রাজনৈতিক দল নিয়ে, গণতন্ত্র নিয়ে সবক দেয়ার অধিকার ওই সাংবিধানিক পদে থেকে আপনাকে কেউ দেয় নাই।”

তিনি বলেন, “আমরা যা করব, রাজপথে ফয়সালা করব। আমরা যা বলেছি, হাসিনাকে রেখে নির্বাচন করব না, হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করেই নির্বাচন করব।

“সেই কারণে আমাদের একটাই শ্লোগান, ‘হটাও হাসিনা, বাঁচাও দেশ। টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।”

‘বিদ্যুতের ওপর শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি’

গয়েশ্বর রায় বলেন, “আজকে বিদ্যুতের ঘাটতি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। বিদ্যুৎ নাই। আমার টাকা গেলো কোথায়? বিদ্যুতের জন্য যে টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে সেই টাকা তো জনগণকে পরিশোধ করতে হবে।

“আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেন জাতির সামনে। কোন কোন কোম্পানিকে কত টাকা দিয়েছেন? কোন কোন কোম্পানিকে কুইক রেন্টাল বেসিসে প্রণোদনার জন্য দিয়েছেন? কোন কোন প্রজেক্টে আপনি কত টাকা ব্যয় করেছেন? তার সামগ্রিক উৎপাদন ক্যাপাসিটি কত? আপনি পেয়েছেন কত এবং এখন ঋণ আছে কত? - এটা জাতির সামনে সুস্পষ্ট করে বলেন।”

“যদি না বলেন, তাহলে ধরে নেবো সকল প্রজেক্টে এই দুর্নীতির যে অংশ বা এই দুর্নীতির যে লাভ তা আপনার আঁচলে গেছে। আপনার লুটেরা গোষ্ঠীরা নিছে, যারা আজকে মুদ্রা পাচারের মধ্য দিয়ে আজকে ব্যাংক খাতকে শেষ করে দিয়েছে।

বিদ্যুতের চলমান লোডশোডিং ও গ্যাসের সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন গয়েশ্বর।

অর্থমন্ত্রী এবং আইএমএফের ঋণ আবেদন

অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, “তিনি কন আইএমএফের কাছে আমরা টাকা চাই না। আবার পত্রিকায় দেখলাম, ভেতরে ভেতরে আইএমএফের কাছে কত কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

“আর আইএমএফ কী বলেছে? আপনারা কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় করবেন তার একটা হিসাব চাইছে। যে প্রতিষ্ঠান ঋণ দিবে সে হিসাব চাইবে না যে তারে ঋণ দিলাম। যে কথা বলে নিলো সেই কাজটা সে করতেছে কিনা? আমার টাকাটা ফেরত দেবে কিনা?”

‘প্রধানমন্ত্রীর চায়ের দাওয়াত প্রসঙ্গে’

গয়েশ্বর বলেন, “আজকের ‘মিড নাইট গভার্নমেন্টের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার বাড়ি ঘেরাও করতে গেলে তিনি চা দিয়ে আপ্যায়ন করবেন। আপনার বাড়ি যদি কখনও কেউ ঘেরাও করতে চায়, যতজন চায়, তাদের চায়ের জন্য যে পানির দরকার হবে সেই পানি আপনার কাছে মজুদ আছে কি?”

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদরেজ জামানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আকরামুল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সারওয়ার, আনু মোহাম্মদ শামীম আজাদ, ইয়াসীন আলী, ফখরুল ইসলাম রবিন, নজরুল ইসলাম, গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ বক্তব্য রাখেন। স্মরণসভায় প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক