Published : 15 Jul 2025, 08:26 PM
সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠায় সমর্থন থাকলেও এর গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ।
তিনি বলছেন, দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ভার এখন কমিশনের এবং রোববার সেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসে কমিশন। এদিন কথা হয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে।
আলোচনা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন "কমিশনের বৈঠকে দ্বিকক্ষ সংসদ এবং সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার কমিশনের উপরই বর্তেছে।"
আলী রীয়াজ বলেন, "সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের দ্বিকক্ষ সংসদের প্রতি সমর্থন রয়েছে। কিন্তু উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। উচ্চকক্ষের প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত রোববার জানানো হবে।”
এদিন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীও। আলোচনার পর দুই দলই উচ্চকক্ষ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ চান।
অন্যদিকে জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, তারা ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে।
দলগুলোর এ মতভেদ তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, “কিছু দল ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার পক্ষে, আবার কেউ কেউ আসনের সংখ্যানুপাতে গঠনের প্রস্তাব করেছেন।
"যেহেতু এ বিষয়ে দলগুলো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি, তাই উচ্চকক্ষ সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার ঐক্যমত কমিশনে অর্পণ করা হয়েছে। কমিশন আগামী দিনগুলোতে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।"
সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, "দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠিত না হলে অথবা গঠিত হওয়া পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন প্রয়োজন হবে।
“কিছু সুনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ, যেমন প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬, ১৪২ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা (অনুচ্ছেদ ৫৮ক, ৫৮খ এবং ৫৮ঙ) সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন হবে।”
তিনি বলেন, "রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। কমিশন আশা করছে, আগামী সপ্তাহে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কীভাবে নিযুক্ত হবেন, সে বিষয়ে একটি সমাধান আসবে।"
নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সাংবিধানিক মর্যাদার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "কমিশন মনে করে, বাংলাদেশের গণআন্দোলনে, বিশেষ করে গত বছরের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অনবদ্য ভূমিকার কারণে তাদের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।"